আজ | শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০
Search

দার্জিলিংয়ের পথে পথে

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন :তৃতীয় পর্ব

লতিফুল হক মিয়া | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

chahida-news-1582696023.jpg

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন :: দ্বিতীয় পর্ব এর পরের অংশ

হোটেল মহাকাল

পরের দিন ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ঘুম থেকে ওঠে প্রাকৃতিক কাজ-কর্ম সম্পন্ন করলাম। পরে দলের সদস্যরা সবাই একত্র হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেলাম নাস্তা করতে। নাস্তা করতে গিয়েও বিড়ম্বনার শিকার হলাম। এত বেলায়ও উল্লেখ সংখ্যক রেস্টুরেন্ট খোলেনি। যা আবার দু’য়েকটি খুলেছে সেগুলোতেও প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শীত প্রধান এই অঞ্চলে খাবার ঠান্ডা হওয়ার আশঙ্কায় কোনো খাবারই অগ্রীম তৈরি করে রাখা হয় না। অর্ডার দিলে খাবার তৈরি করেন তারা। খাবার খেতে গেলে এক ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে যাওয়ায় উত্তম। সকালের নাস্তা সেরে হোটেলে পৌঁছতে বাজল প্রায় বেলা ১১টা। হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানাল, জিপ গাড়ির চালক আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই দেরি না করে সবাই উঠলাম গাড়িতে। প্রথমেই গাড়ি চালক নিয়ে গেলেন বাতাসিয়া লুপে। প্রবেশ ফি ২০ রুপি পরিশোধ করতে হলো আমাদের। যেয়ে দেখি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে এটি। ফুলের বাগান। সবুজ ঘাস। পাতাবাহার-লতাগুল্ম ইত্যাদি। সান বাঁধানো পথ। চত্বরের মাঝখানে বিশাল উঁচু কালচে গোলাকার স্তম্ভ। ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে তৈরি হয়েছে এটি। এই বাতাসিয়া পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু শেষ মাথা ছুঁয়ে ঘুরে এসেছে রেল লাইন। ২ ফুটি শর্ট গেজের রাস্তা। অনেকটা খেলনা রেল লাইনের মতো। নাম ‘টয় ট্রেন’! এই লুপের বিশেষত্ব হলো এটি একটি পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত। অনেকটা মালভূমির মতো। উপর থেকে নিচে ক্রমশ সুষম ঢালু।

দার্জিলিংয়ের বাতাসিয়া লুপে লেখকসহ সহযোদ্ধারা

মাঝখানের মিনার বা স্তম্ভকে ঘিরে রয়েছে শ্বেতপাথরে বাঁধানো চত্বর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পুরো চত্বরটি কাত হয়ে আছে। একদিকে হেলে পড়ে যেতে পারে। এই ট্রয় ট্রেনে ওঠার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর মধ্যে চেপে বাতাসিয়া লুপ পার হওয়া।

আরও পড়ুন: মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন :: প্রথম পর্ব

দার্জিলিংয়ের কেএফসিতে লেখক

বাতাসিয়া লুপ দেখে আমরা গেলাম রক গার্ডেনে। শহর থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট নিচে নেমে যেতে হবে এই বাহারি ঝর্ণার বাগান দেখতে হলে। ঝর্ণার প্রতিটা স্টেপ দেখার জন্য আছে সুন্দর পথ ও সিঁড়ির ব্যবস্থা। চাইলে একদম উপর পর্যন্ত উঠে ঝর্ণা ও তার আশপাশ এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। আছে বাহারি ফুলের বাগান এখানে।

দার্জিলিংয়ের রক গার্ডেনে লেখকসহ টিমের অন্যরা।

এরপর আমরা গেলাম ‘জাপানিজ প্যাগোডা’য়। সেখানে কিছু সময় ব্যয় করে গেলাম দার্জিলিং রোপওয়ে বা ক্যাবল কার স্টেশনে। কারে চড়তে গেলে আপনাকে ২০০ রুপি গুণতে হবে। এছাড়াও দীর্ঘ এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে। কারে উঠলে বিস্ময়কর দৃশ্য অপেক্ষা করবে আপনার জন্য। যারা প্রথম ক্যাবল কারে চড়বেন তাদের জন্য অনেক রোমাঞ্চকর লাগবে। তবে আমি যখন ক্যাবল কারে চড়ে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে যাচ্ছিলাম, আমার কাছে মনে হচ্ছিল যেন এক পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে দেখতে অন্য পৃথিবীতে যাচ্ছি। 

দার্জিলিংয়ের রোপওয়েতে লেখক

আর কারের নীচে বাগানের চা গাছগুলো যেন হাত তুলে অভিবাদন জানাচ্ছে। ক্যাবল কারে ২০ মিনিট বসলে পৌঁছে যাবেন অপরপ্রান্তে। ওখানে রয়েছে কয়েকটি হালকা খাবারের দোকান। ওখান থেকে বাগানের চা কেনার সুযোগও রয়েছে। ক্যাবল কারের ফিরতি পথে আবারও লাইন ধরতে হবে। তবে এই যাত্রায় আধাঘণ্টা মতো লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে কারে চড়ে আবার চলে এলাম অপর প্রান্তে।

তেনজিং রকে

এরপর আমরা গেলাম হ্যাপি ভ্যালি চা বাগানে। এটি দার্জিলিং-এর দ্বিতীয় সবচেয়ে পুরনো চা বাগান। ১৮৫৪ সালে হ্যাপি ভ্যালি চা বাগান চালু হয়। সময় স্বল্পতার কারণে আমরা এখানে খুব বেশি সময় ব্যয় না করে চলে গেলাম তেনজিং রকে। এখানে যা দেখলাম- সন্তুষ্ট হওয়ার মতো তেমন কিছুই নেই। এরপর আমরা সোজা হোটেলে।

হ্যাপি ভ্যালি চা বাগান

দার্জিলিংয়ে গেলে এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- স্থানীয়রা সকাল ১০টার আগে রেস্টুরেন্ট, দোকান ও শপিংমল কিছুই খোলে না। সেই সাথে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে আবার সবকিছুই বন্ধ করে দেয়। সুতরাং হোটেল থেকে প্রাকৃতিক কাজ কর্ম সেরে বেড়িয়ে পড়লাম কেনাকাটা ও রাতের খাবারের জন্য। আমাদের হাতে রয়েছে ২ ঘণ্টা। এরমধ্যে ১ ঘণ্টা রাখলাম কেনাকাটার জন্য বাকি সময়টা রাতের খাবারের জন্য। এই সময়ের মধ্যেই আমরা কেনাকাটা ও ‘হোটেল মহাকাল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ বাঙালি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেয়ে ফিরলাম আমাদের হোটেলে। 

(চলবে....)

আরও পড়ুন:  প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্ব, : চতুর্থ পর্ব, পঞ্চম পর্বষষ্ঠ পর্ব এবং শেষ পর্ব

  

আপনার মন্তব্য লিখুন