আজ | সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০
Search

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন : দ্বিতীয় পর্ব

লতিফুল হক মিয়া | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

chahida-news-1582695426.jpg

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন :: প্রথম পর্ব এর পরের অংশ

রানা ভাই শিলিগুড়িতে আগে পৌঁছানোটা টিমের জন্য বেশ উপকারই হয়েছিলো। তিনি বেশ কয়েকটি স্থানীয় ট্যুর কোম্পানীর সঙ্গে আগেই কথা বলেছিলেন। কোম্পানীগুলো শিলিগুড়ি থেকে আমাদেরকে সিকিমে জিপে করে নিয়ে যাবে। সেইসাথে হোটেলে রাত্রি যাপন, সংরক্ষিত এলাকায় যাবার অনুমতি ও রাত্রি যাপন; সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থানকালে চার বেলা খাবার এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করাবে। আবার দার্জিলিংয়ে রাত্রি যাপনের সাথে দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করাবে। অবশেষে শিলিগুড়িতে পৌঁছে দিবে। এমন কোম্পানীগুলোর মধ্যে আমরা ‘হলিডে ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস’কে বেছে নিলাম। তাদের ফোন নম্বর উত্তম: ৯৮৩২০১১৯৯২। ওই কোম্পানীটি মাথাপিছু ৪ হাজার ২০০ রুপিতে আমাদেরকে ঘোরাবে এই শর্তে। এরপর কোম্পানীটি আমাদের বিভিন্ন তথ্য তাদের ফরমে লিপিবদ্ধ করা শুরু করল। এই ফাঁকে আমরা খাবার গ্রহণের প্রস্তুতি নিলাম। আমরা সবাই ছিলাম প্রচন্ড ক্ষুধার্থ। কারণ এই সময়েও আমাদের দুপুরের খাবার কেউ খাইনি। খাবার ও ফরম পূরণ করা শেষ হতে বাজল সন্ধ্যা ৬টা। ঢাকা থেকেই আমরা সিকিমকে মূল ভিত্তি করে ঘোরার পরিকল্পনা করি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রথম দিন যেতে চেয়েছিলাম সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে। কিন্তু তা আর হলো না। কারণ রাত ৮টার পরে সিকিম গেট ‘রংপো’ থেকে আর কাউকে অনুমতি দেয়া হয় না। তাই এক প্রকারে বাধ্য হয়েই সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রা শুরু করলাম দার্জিলিংয়ের দিকে। তবে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি আমাদের সিকিম ভ্রমণের জন্য ‘সাপেবর’ হয়েছিল।

আমাদের লাগেজগুলো গাড়ির উপরের ক্যারিয়ারে তোলা হলো। এরপর শিলিগুড়ির এসএনটি টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করল আমাদের গাড়ি। শহরের আলো-আধারি পরিবেশের মধ্য দিয়ে জিপে চড়ে যেতে বেশ ভালোই লাগছিল। এই যাত্রায় আমাদের জিপের চালক ছিলেন দুই জন। তাদের সঙ্গে পরিচয় পর্বটা সেরে নিলাম। একজনের নাম ছিলো ‘এরিখ’ ও অন্যজন ‘সুব্রত’। তারা দু’জনেই যথেষ্ট ভালো মানের ইংরেজি বলতে পারেন। আমি যেহেতু হিন্দি বুঝিনা তাই ভালো কাজে এসেছিল। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন পরিবেশের সম্পর্কে পরিচিত হতে হতে চলছিল আমাদের গাড়িটি। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর আমাদের জিপটি চলছিল সেনানিবাস এলাকার মধ্যদিয়ে। সেনা স্থাপনার চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও স্থাপত্য দেখতে বেশ ভালো লাগছিল। পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা রাস্তার উপর দিয়ে চলছে আমাদের জিপটি। রাতে যাত্রা হলেও গাড়ির হেডলাইটের আলোতে পাহাড়ের দৃশ্য ও বাঁকগুলো ভালোই লাগছিল। দিন হলে সম্ভবত আরো সুন্দর লাগত।

এরপর গাড়ি চালক সামান্য সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি দিলেন। কারণ সারাদিন তারা খাওয়া-দাওয়া করেননি। গাড়ি থেকে নামতেই বুঝতে পারলাম শীতের তীব্রতা। উপরে ক্যারিয়ারে থাকা লাগেজ থেকে আমার জ্যাকেটটি বের করে পরলাম। অন্যরাও তাদের গরম কাপড় বের করতে বাধ্য হলেন। গাড়ি চালকদের খাবার শেষে শুরু হলো পুনরায় যাত্রা। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ের দুরত্ব ৬৩ কিলোমিটার। সময় লাগে ঘণ্টা তিনেক। আঁকা-বাকা পিচ ঢালা পাহাড়ি পথ ধরে চলছে আমাদের গাড়িটি। রাস্তাগুলো খুবই সুন্দর। কোথাও ভাঙাচোরা নেই। রাস্তার দু’ধার ঘেষেই প্রতিবিম্বকারী ট্রাফিক সিম্বল রয়েছে। সিম্বলগুলো গাড়ির আলোতে জ্বলজ্বল করছিল। পাহাড়ের মাঝে, নীচে ও উপরে অনেক বাড়ি দেখতে পাচ্ছিলাম। পাহাড়ে বাড়িগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হবে স্টেডিয়ামের গ্যালারির আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়িগুলোর আলো পাহাড়কে আরো আলোকিত করে ফেলেছিল। সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দিয়েছিলো বহুগুণ। রাত ১০টার দিকে আমাদের জিপটি থামলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতার শহর দার্জিলিংয়ে। চালক জানালেন, আমরা হোটেলের সামনেই পৌঁছে গেছি। হোটেলের স্টাফরা এসে আমাদের লাগেজগুলো বহন করে নিয়ে গেল হোটেলের লবিতে। হোটেলটির নাম ছিলো ‘হোটেল সুইট’। তাদের ফোন: ০৩৫৪-২২৫৬০৪৩। ওখানকার একজন স্টাফ ছিলেন দিনাজপুরের। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ হলাম। অভ্যর্থনা কক্ষে কিছু নিয়ম-কানুন সম্পন্ন করলাম। স্টাফরাই আমাদের ব্যাগগুলো নিয়ে গেল তিন তলার কক্ষে। কক্ষগুলো দেখে আমাদের পছন্দ হলো। এটি তিন তারকা মানের একটি হোটেল। গিজার ও ইন্টারনেট সুবিধাসহ আধুনিক সকল সুযোগই ওখানে ছিলো। কক্ষ পরিদর্শন শেষ করে নিচে গেলাম অভ্যর্থনা কক্ষে। পরের দিন আমরা কোথায় যাব সে বিষয়ে কথা হলো হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারাই আমাদের গাড়ি সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যটন স্থানগুলো দেখাবেন। এরপর গেলাম রাতের খাবার সংগ্রহে। দার্জিলিং শহরের কোনো দোকানই রাত সাড়ে ৮টার পরে আর খোলা খাকে না। তাই আমরা কোনো রেস্টুরেন্ট আর খোলা পাইনি। একটি মুদি দোকান সাটার নামাবে ঠিক সেই মুহ‚র্তে আমরা হাজির হলাম। সেখান থেকেই বিস্কুট-কেক কিনে তাই খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

(চলবে....)

আরও পড়ুন:  প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্ব, : চতুর্থ পর্ব, পঞ্চম পর্বষষ্ঠ পর্ব এবং শেষ পর্ব

  

আপনার মন্তব্য লিখুন