আজ | শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
Search

মোঘল স্থাপত্য ইন্দ্রাকপুর কেল্লায়

২:১৩ অপরাহ্ন, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

chahida-news-1570090383.jpg

স্বঘোষিত যাযাবর তিনি। তার নাম হলো Abid Gipsy। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়েই যাওয়ার পরিকল্পনা করি আমি পরিব্রাজক Litu Mia কেল্লা দর্শনের। এই স্বল্প দৈর্ঘ্য ভ্রমণে আমার সঙ্গী ছিলো ছোট বোন আর প্রিয় বাইক। যাই হোক, হেমন্তের এক শুক্রবারের সকালে যাত্রা শুরু করলাম কেল্লা দর্শনে। কেল্লায় যখন পৌঁছলাম তখন সময় সকালা ১০টা।

কেল্লার ইতিহাস: মোগল আমলে তৈরি জল দূর্গের মধ্যে যে কয়টা টিকে আছে তার মধ্যে ইন্দ্রাকপুর কেল্লা অন্যতম। মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে পুরনো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরের ইদ্রাকপুরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে এটি আয়তনে কিছুটা ছোট। সে সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি। সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোণে রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। দুর্গের ভেতর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। বাংলাদেশে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নির্দশন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে।

যেভাবে গিয়েছিলাম: বাইক দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড হয়ে চাষাঢ়া দিয়ে মুক্তারপুর ব্রিজ পার হয়ে লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করতে করতে গিয়েছিলাম কেল্লায়।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার গুলিস্তান থেকে মুন্সিগঞ্জগামী বাসে সদরের কাচারি নামতে হবে। এখান থেকে রিক্সায় ইন্দ্রাকপুর কেল্লায় যেতে হবে। অথবা যেকোন যায়গা থেকে কমলাপুর, সেখান থেকে ট্রেনে নারায়নগঞ্জ ভাড়া ১৫ টাকা। সময় লাগবে ১ ঘন্টার মত, তারপর বন্দরে যেয়ে মুন্সিগঞ্জগামী ছোট লঞ্চ এ চড়ে মুন্সিগঞ্জ, ভাড়া ২০ টাকা। সময় ৩৫-৪০ মিনিট। ৩০ মিনিট পর পরই লঞ্চ ছাড়ে। মুন্সিগঞ্জ ঘাটে নেমে রিকশায় ২০ টাকা ইদ্রাকপুর দুর্গের সামনে। যেকোন রিকশা ওয়ালা কে কেল্লা বললেই চিনবে। ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জঃ ১ সড়ক পথ = ঢাকার গুলিস্তান ও বঙ্গভবনের দক্ষিণ পাশ থেকে নয়ন পরিবহন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট ছাড়াও বেশ কিছু বাস মুন্সিগঞ্জ যায়। ভাড়া ৩০-৫০ টাকা। ২ নদী পথ =ঢাকার সদরঘাট থেকে ছোট ছোট কিছু লঞ্চ, চাঁদপুরগামী সব বড় লঞ্চই মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি স্টেশনে থামে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। ২ ট্রেন ও নদী পথ = বিমানবদর স্টেশন থেক কমলাপুর ট্রেনে , কমলাপুর থেকে নারায়ঙ্গঞ্জ ট্রেন পাবেন, নারায়ঙ্গঞ্জ থেকে লঞ্চে মুনিসগঞ্জ

থাকা-খাওয়া: স্পটের আশে-পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি খবারের দোকান। পাশেই রয়েছে ডিসি পার্ক। সেখানেও উন্নত মানের খাবার পাওয়া যাবে। এছাড়াও চাইলে আপনি খাবার নিয়ে যেতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে দিনে দিনে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণ শেষ করে ফিরে আসা সম্ভব। তাছাড়া জেলাশহরে থাকার সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের দু-একটি হোটেল হলো হোটেল থ্রি স্টার (০১৭১৫৬৬৫৮২৯, ০১৭১৫১৭৭৭১৬) এবং হোটেল কমফোর্ট। এসব হোটেল ১৫০-৬০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। ভ্রমণে গেলে মুন্সিগঞ্জের জায়গাগুলো দেখে সবশেষে পদ্মা রিসোর্ট (০১৭১৩০৩৩০৪৯) এসে থাকলে ভালো লাগবে।

সতর্কতা: আপনি বিন্দু থেকে সিন্ধুতে ঘুরে বেড়ান তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটিই আমাদের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। আর প্রকৃতি যদি কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয় তাহলে ‘আইলা’ ও ‘সিডর’র মতো বিভিন্ন টর্নেডো দিয়ে আমাদের ভোগাতে পারে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন