আজ | সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Search

ঘুরে এলাম ভাসমান বাজার

১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই, ২০১৯

chahida-news-1563944615.jpg

ভিমরুলি, কুরিয়ানা ও আটঘর বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজারের জন্য। সারিসারি ভাসমান নৌকায় সবুজ, হলুদ পেয়ারার ছড়াছড়ি। ক্রেতাবিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত জায়গাটি এক বিস্ময় বটে। ভিমরুলির জলবাজারের সে বিস্ময় দেখতে দুই বন্ধু মিলে রাতে ঢাকা সদরঘাটের ৯টার লঞ্চ সুন্দরবন-১১ করে বরিশালের পথে রওনা হই। ভোর চারটায় পৌঁছে যাই। ভাড়া নিলো ডেকে ১৫০ টাকা করে। সকাল ছয়টায় আমরা লঞ্চঘাট ছাড়ি। ভোরের আলো ফোটতে ফোটতে প্রথমে ১০ টাকা মাহেন্দ্রা ভাড়া দিয়ে চলে গেলাম রুপাতলি বাসস্ট্যান্ডে। বাসস্ট্যান্ডে প্রথমে হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম সরাসরি ঝালকাঠির কলেজ মোড়ে। সিএনজি ভাড়া ৬০ টাকা জনপ্রতি। কলেজ মোড় থেকে প্রথমে ১০ টাকা ভাড়াতে চলে গেলাম গাবখান সেতুতে। সুন্দর একটি সেতু দেখে নেক্সট গন্তব্য ঠিক করলাম কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি। সেজন্য প্রথমে সেতু থেকে পিছনের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর পৌঁছে গেলাম কীর্তিপাশা রাস্তার মোড়ে। সেখান থেকে অটোতে বা লেগুনা তে করে জনপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়ায় চলে যাওয়া যায় ডিরেক্ট কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়িতে ১ঘন্টার মতো সময় ব্যায় করে চলে গেলাম সরাসরি ভিমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজারে। যে বাজারে মাত্র কিছুদিন আগে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ঘুরে এলেন। তিনি এমন বাজার দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। মাত্র ২০ টাকা অটো ভাড়ায় সরাসরি ভিমরুলি বাজার চলে গেলাম। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে কাজটি ঠিক করতে হলো সেটা নৌকা ভাড়া করা! যেহেতু মাত্র দুজন ছিলাম সেহেতু আমাদের পক্ষে পুরো ট্রলার ভাড়া করা খরচে বটে। এবং আশেপাশে কোনো গ্রুপ দেখতে না পেরে ডিঙ্গি নৌকা ঠিক করলাম দরকষাকষি করে। দুই ঘন্টার জন্য ২৫০ টাকাতে।যেহেতু বাজার জমে উঠে ঠিক সকাল ১০ টাই। তাই হাতে সময় ছিলো অনেক। প্রথমে নৌকা নিয়ে চলে গেলাম বাগানের ভিতর, তখন সবাই পেয়ারা পারতে ব্যাস্ত। নতুন একটা বাগানে পার্ক করতে দেখা যাচ্ছে সেখানে ২০ টাকা নাকি প্রবেশ মূল্য করা হবে। এই পার্কের অফার হচ্ছে আপনি যত খুশী পেয়ারা পেড়ে খেতে পারেন। কিন্তু সাথে করে আনতে পারবেন না! অফারটা ভালোই লাগলো :D ১০ টার মতো পেয়ারা খেতে পারলাম! বাগান থেকে এখন রওনা দিলাম বাজারের উদ্দেশ্যে। পুরো বাজার গরম। মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা দিয়ে বেপারীরা পেয়ারার মণ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বিখ্যাত পেয়ারা বাজার দেখা শেষ করে সরাসরি চলে গেলাম ঝালকাঠির কলেজ মোড়। ভাড়া নিলো জনপ্রতি ৩৫ টাকা। কলেজ মোড় থেকে সিএনজিতে ৬০ টাকায় চলে এলাম বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে পঁচিশ টাকা বাস ভাড়ায় চলে গেলাম সরাসরি গুঠিয়া মসজিদের গেটে। সময় লাগলো ৪০ মিনিট। একটা কথা উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই সুন্দর মসজিদটি দর্শনার্থীদের জন্য দুপুর ১২.৩০ থেকে দুপুর ২. ০০ টা। এবং বিকাল ৪.০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত। অনান্য সময়ে আপনি চাইলেও ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। মসজিদ দেখা শেষ করে ৫ টাকা ভ্যান ভাড়ায় চলে আসি গুঠিয়া বাজারে। সেখানে বিখ্যাত গুঠিয়ার সন্দেশ খেয়ে অটো ভাড়া ২০ টাকা দিয়ে চলে গেলাম নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়ায় লঞ্চ টার্মিনাল। রাত ৯টার লঞ্চে ঢাকা। আর এভাবেই শেষ হলো দুই ব্যাচলরের ডে ট্যুর। পুরো ট্রিপে পার্সোনাল খরচ সহ ৯৮০ টাকা খরচ হয়!!

বিদ্রঃ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ বিনষ্ট করবেন না। যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন