আজ | শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯
Search

খালেদাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে

২:০৯ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

chahida-news-1551254989.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত কারাগারে আটকে রেখেছে।

সুচিকিৎসা না দিয়ে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যে অসুখ, তা অত্যন্ত মারাত্মক। তার নিয়মিত সুচিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু তাকে তার কোনো ধরনের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে না, চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। বিগত বছরের ৯ই নভেম্বর থেকে তাঁর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি। ২৪শে ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে কারাগারে গিয়ে দেখেছেন।

তিন মাসে তাঁর রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে শারীরিক কোনো পরীক্ষাই করা হয়নি।

এটি দেখে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিন মাস আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত সরকারি মেডিকেল বোর্ড গতকাল প্রথমবারের মতো তাকে দেখতে যায়। তারা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন, গত সাড়ে তিন মাসে তার কোনোরকম ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা হয়নি। এক্স-রে করা হয়নি। ব্লাডপ্রেশার পর্যন্ত মাপা হয়নি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, কারাগারে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া হেঁটে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হেঁটে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এখন তিনি কারো সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতেও পারেন না। তার দুই কাঁধে ব্যথা। হাঁটুর ব্যথা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগও বেড়েছে। তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, প্রচণ্ড ব্যথা ও হাতের কাঁপুনির কারণে কোনো কিছু ধরতে পারছেন না। তার বয়স ৭৩ এর পথে।

এই বয়সে এ রোগগুলোর নিয়মিত চিকিৎসা করা না হলে জীবননাশের প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকে। আমরা আশঙ্কা করছি, এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র আছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে মূলত তাকে অকালে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এখন চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কিছু হলে ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়’ এই সরকারকে সব দায়দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা সাফ জানিয়ে দিতে চাই, দেশনেত্রীর যদি কোনো প্রকার শারীরিক ক্ষতি হয়, এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তার চিকিৎসায় বাড়তি খরচ হলে সে চিকিৎসার সব খরচ বহন করতেও রাজি বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, চার মাস ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদেরও দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আগে সপ্তাহ পরপর স্বজনদের দেখা করতে দিলেও, তা এখন সীমিত করে দেয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, প্রায় ৩০টি সম্পূর্ণ সাজানো মামলা তার বিরুদ্ধে।

এগুলো একটার পর একটা নিয়ে আসা হয়। আর নিম্ন আদালতে গেলে অনেক দিন পরে আবার তারিখ দেয়া হয়। জামিন পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি- খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধীদলীয় নেতা। এখনো তিনি এই দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।

নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ন্যায়বিচার তার প্রাপ্য। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজার রায় ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে বন্দি জীবন যাপন করছেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ এ সময় তাকে দুইবার চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়েছিল। প্রথমবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য গত এপ্রিলে। দ্বিতীয়বার ৬ই অক্টোবর থেকে ৮ই নভেম্বর পর্যন্ত তার চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল হাসপাতালে ভর্তি রেখে। 

  

আপনার মন্তব্য লিখুন