আজ | সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯
Search

কূটনীতিকদের যা জানালেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

১২:২১ অপরাহ্ন, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮

chahida-news-1545286896.jpg
কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হয়নি, বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের গ্রেফতার, প্রচারণায় হামলা, নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারসহ নানাবিধ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এ বৈঠকে।

রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বুধবার দুপুর ২টা থেকে কূটনীতিকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়। বৈঠকে ঐক্যফ্রণ্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন তিন পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান কূটনৈতিকদের। তার এ বক্তব্যের শুরুতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বলা হয়, 'এর মাধ্যমে একটি সংসদকে রেখে এবং সংসদ সদস্য পদ বহাল রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিধি সংযোজন করার কারণে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাধাগ্রস্ত হয়। এর কারণে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতাকেও খর্ব করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন সরকার সব নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যতম। পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে আওয়ামী লীগ এককভাবে এর সুবিধ ভোগ করছে। তারা বিগত দশ বছরে বিচার ব্যবস্থাকেও দলীয়করণ করেছে।'

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, 'ক্ষমতাসীন দলের একতরফা নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এই দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি মিথ্যা ও প্রহসনের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বিদেশে নির্বাসিত। এরপরও গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে থাকতেই দেওয়া হচ্ছে না।'

ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও তাদের ৬ জন প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর-১ আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন, গাজীপুর-৫ আসনের ফজলুল হক মিলন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের শাহাদাত হোসেন, কুমিল্লা-৬ আসনের মনিরুল হক চৌধুরী, সাতক্ষীরা-৪ আসনের নজরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা রয়েছেন। এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২ হাজার ১৭১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বাহনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসা-বাড়িতে তল্লাশি, হুমকি ও নির্যাতন করার অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে প্রত্যেক বিরোধী দলের প্রার্থীরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। অনেক প্রার্থী নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজের এলাকা ত্যাগ করে ঢাকায় রয়েছেন। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিব্রতবোধ করেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা কিংবা ঘটনার প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, এসবের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চাইছে— বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে আসুক। এর মাধ্যমে তারা এক তরফা নির্বাচন করতে চায়, যেভাবে তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা ভোটে সরকার গঠন করেছিল।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা এর আগে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময়ে তারা নির্বাচনী সহিংসতা দূর করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রায় ৩৫টি রাষ্ট্রের কূটনৈতিকদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তাদের ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এর বাইরে নির্বাচনী পরিবেশ ও জটিলতা সম্পর্কেও তাদেরকে জানানো হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কূটনৈতিকরা কোনো মন্তব্য করেননি।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটির প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রার্থীদের ওপর হামলা, হয়রানিমূলক মামলা আর নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে তাদের (কূটনীতিকদের) কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না। যদিও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে চিন্তিত।

তিনি বলেন, '২০ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী টহল দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তারা বলেছিল, ১৫ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে। এখন বলছে ২৪ ডিসেম্বর। আমরা দাবি করছি ২০ ডিসেম্বর নামানোর জন্য। তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে।'

জাফরুল্লাহ আরো বলেন, 'এর আগে কোনো নির্বাচনে দেখিনি পুলিশ এভাবে হয়রানি করে। কমিশন অন্ধের ভূমিকা রাখছে। '

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, তাবিথ আউয়াল, জেবা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন