আজ | মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Search

নববর্ষের সংস্কৃতি

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন | ১২:৪৩ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯

chahida-news-1555483427.jpg

সম্পূর্ণ ভারতের প্রেরণায় ও অর্থায়নে বাংলা নববর্ষে ভর করে বাংলাদেশের ব্যাপক সংখ্যাগুরু জনগণের ওপর হিন্দু ধর্মকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটা নাকি আহবমান বাংলার সংস্কৃতি। এই ধরনের ফরমাইসী প্রচারণার জন্য একশ্রেণীর কথিত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিক একপায়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাণী এখন ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশাল বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এরাই মুসলিম প্রধান সাবেক পূর্ব বাংলার- আজকের বাংলাদেশের- বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আগেকার ধারাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে হিন্দু ধর্মকেন্দ্রিক ধারা চালু করার ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৮৯ সনে নববর্ষ উদ্যাপনের নামে হঠাৎ হিন্দুদের দেবদেবী মূর্তিকে একটুখানি অদল-বদল করে তা তথাকথিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় বহন করার রীতি চলছে। অথচ এর আগে নববর্ষের দিন রাস্তায় সাধারণ সমাবেশও হয় নি।

তথাকথিত প্রগতিবাদী মুসলিম নামধারী পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে এখন পহেলা বৈশাখে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে, উলুধ্বনী দিয়ে, শাঁখা বাজিয়ে, মঙ্গল কলস সাজিয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। পহেলা বৈশাখে মিছিলে ঢোলের ব্যবহার, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হনুমান, বানর, ময়ুর, হাতি, ঘোড়া ও কচ্ছপের প্রতীকের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মুখোশ সম্বলিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাতে-গালে আল্পনা এঁকে, লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, খোঁপায় হলুদ গাদা ফুলের মালা, হাতে শাঁখা চুঁড়ি, চটি জুতা, ধুতি, কাধে উত্তরীয় নামক গামছা লাগিয়ে কথিত বাঙালী মুসলিম মহিলারা সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে, গলায় পুঁতির ও গজোমালা, হাতে শাঁখা পারে বাঙালীত্ব জাহিরের প্রতিযোগিতায় নামেন।

এই সবই নাকি আহবমান বাংলার সংস্কৃতি। এই বাংলা কোন বাংলা? ভারত শাসিত বাংলা, নাকি মুসলিম শাসিত স্বাধীন বাংলাদেশ? ভারত শাসিত বাংলাতেও এই ধরনের শোভাযাত্রা আগে কখনোই দেখা যায় নি। স্বাধীন বাংলার ভাড়াটেদের অনুকরণে মাঝে মাঝে বিগত দু-এক বছরে স্বল্প পরিসরে কিছু শোভাযাত্রা সীমিতভাবে কলিকাতায় দেখা গেছে। কিন্তু এই বছর তেমন কিছুই হয় নি। এই নিবন্ধ লেখার সময় কলিকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ভারত শাসিত বাংলার নববর্ষ উদ্যাপন সম্পর্কে কোন খবরই আসে নি (নিউইয়র্ক সময় সকাল ৮.১০ মিনিট, ঢাকা সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট এবং কলিকাতা সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট)। ঢাকায় জনৈক সাংবাদিকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান: আমি সকাল থেকে ভারতীয় চ্যানেলের ওপর চোখ রাখছি। এই পর্যন্ত কলিকাতায় কিংবা অন্যত্র বাংলা নববর্ষের কোন খবর আসে নি, মঙ্গল শোভাযাত্রা তো দূরের কথা।

অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতের নিয়োজিত কিছু শিক্ষিত মজুরদের মাধ্যমে জোর করে চাপিয়ে দেয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছরই বের হয়। কারা এই বিশাল আয়োজনের মূল হোতা, কে এদেরকে পয়সা দেয় তা জানান জন্য কোন গবেষণার প্রয়োজন নেই। আমি তো সরাসরিই বলে দিয়েছি। এরাই এখন বলে বেড়ায় এটা নাকি আহবমান বাংলার সংস্কৃতি।

আবহমান মানে যা বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু চারুকলা ইনিস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মুতআলীর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে দেয়া ভাষ্যমতে এবং ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর তথ্যানুযায়ী ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষের কথিত মঙ্গল শোভাযাত্রার সূচনা হয়। ওই মিছিলের বানর, পেঁচা, ভুত-পেত্মীর মুখোশের পাশাপাশি হিন্দুদের দেবদেবীর মূর্তি ব্যবহার করে, ঢাকঢোল বাজিয়ে আনন্দ মিছিলকে আহবমানকালের বাঙালী সংস্কৃতি হিসেবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বুঝানো হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি ও মুসলমানদের সংস্কৃতি অভিন্ন।

আসলে তা মোটেই অভিন্ন নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চারটি বাংলা নববর্ষ দেখেছিলেন। তার সময় মুতলুব আলীরা মঙ্গল শোভাযাত্রা তো দূরের কথা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর কথাও ভাবতে পারেন নি। আজ তারই মেয়ে পিতার আদর্শ হতে সরে গিয়ে ভারতের ইচ্ছাকে সবক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি একবারও ভাবেন নি, এইগুলো আমাদের সংস্কৃতি নয়। অভিন্ন ভাষায় কথা বললেও উভয়ে ভাত-মাছ খেলেও হিন্দুদের সংস্কৃতি আর মুসলিম সংস্কৃতি ভিন্ন। উভয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ভিন্ন হবার কারণ উভয়ের সংস্কৃতি মূলত ধর্মাশ্রিত। দু’একটি ক্ষেত্রে সাধারণ অভিন্নতা থাকলেও উভয়ের সাংস্কৃতিক ধারা একেবারেই ভিন্ন । কারণ উভয় সম্প্রদায় তাদের ধর্মকেন্দ্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, যা তাদের চিন্তা-চেতনা, ইতিহাস, রাজনীতি অর্থনীতি, মন-মানসিকতাকেও প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারা তৈরি হয়েছে। এই ধারা যতোদিন বজায় থাকবে পৃথক ও স্বাধীন বাংলাদেশ ততোদিন টিকে থাকবে। তাই ভারত এই ধারাকে বিলুপ্ত করতে চায়। ভারতীয় এবং তাদের বাংলাদেশী মজুররা একদিন বলে ফেলবেন হিন্দু ধর্মাশ্রিত সংস্কৃতিই আহবমান বাংলার বাঙালীর সংস্কৃতি- সেটা গো-পূজা থেকে শুরু করে হনুমান পূজা, কালী পূজা, লক্ষ্মীপূজা, দূর্গাপূজা, মনসা পূজা তথা তেত্রিশ কোটি দেব-দেবীর তেত্রিশ কোট প্রকারের পূজা পর্যন্ত বিস্তৃত।

বর্তমান আদলে নববর্ষ পালন আহবমান বাংলার ঐতিহ্য নয়। এই ধারা ছিলই না। আমাদের শিশুকালে হিন্দু দেবতাদের মূর্তির মিছিল দেখেনি। হিন্দুরাও এই ধরনের মিছিল ঢাকাতে তো নয়ই, এমনকি কলিকাতায়ও হয় নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আমার মতো অনেকেই লেখাপড়া করেছেন। তখনও চারু-কলা ইনিন্সিটিউট ছিল। তবে মুতলুব আলীরা ছিলেন না। শামীম শিকদাররা ছিলেন। তারাও এমন দূরাচারী মিছিল বের করেন নি।

যাটের দশকের শুরু হতেই বাংলা নববর্ষের স্মৃতিকে এখনো আমি রোমন্থন করি। আমার বয়সী সবাই এমনটিই দেখেছিলেন। সেটা কেমন ছিল? অতি ভোরে সূর্য ওঠার সাথে সাথে প্রতিবেশি হিন্দুরা পুরুষ-মহিলারা সম্মিলিত কণ্ঠে চিৎকার করে বলতেন: ‘ভালা বিপদ দূরে যা, সুখ-শান্তি কাছে আয়।’ সূর্য ওঠার একটু পরেই আমাদের বাড়ি থেকে আধামাইলের মতো দূরে মাঠের মাঝখানে কালিবাজার থেকে কিছুক্ষণ পরপর ঢোলের শব্দ আসত। আসলে ওখানে কোন বাজার ছিল না। মাঠ থেকে উঁচু জায়গায় একটি বিরাট বটগাছ ছিল । প্রতি বছর পৌষমাসের শেষ দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন ওখানে হিন্দুরা পূজা করতে আসতেন। হিন্দু মেয়েরা মাথায় কুলা কিংবা কাঁসের পাত্রে পূজার প্রসাদ নিয়ে কালিগাছের নিচে বসা ঠাকুরের পায়ের কাছে রাখতেন। ঠাকুরের পায়ে মাথা ঠুকিয়ে প্রণাম করতেন। উলুধ্বনি দিতেন। আর ঠাকুর মন্ত্র পড়তেন।

এই উপলক্ষে ওখানে গ্রামীণ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় পণ্য নিয়ে আসতেন। পূজার দিনের ওই মেলাকে আমরা বলতাম বাজার। এই বাজারে নানা ধরনের খেলনা, বাঁশি, বেলুন, ছুরি-চাকু ইত্যাদির সমারোহ থাকতো। বাতাসা, জিলাপি, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঙ্গি, তরমুজ, ক্ষিরা, আর শরবৎও বিক্রি হতো। শিশুদের চরকায় পাক খাওয়ার ব্যবস্থা থাকতো। আর হতো যাদু এবং জুয়া খেলা। আমরা বাঁশের বাঁশি, ভেঁপু, আম খাওয়ার জন্য চাকু, খেলনা কিনতাম। আমাদের মা-বোনদের জন্য চুঁড়ি, ফিতা, মিষ্টি কিনে ঘরে ফিরতাম। আমাদের মতো হিন্দু-মুসলিম শিশু-কিশোররা কালিবাজারে যেতেন। কোন মুসলিম যুবক কিংবা বয়সী মুসলমান তো দূরের কথা ব্যবসায়ী ছাড়া বয়সী হিন্দুরাও মেলায় তেমন যেতেন না। আমাদের বয়সী কোন মুসলিম মেয়েও কালী বাজারে যেতেন না। সন্ধ্যা হবার আগেই কালী বাজার মানুষশূন্য হয়ে যেত।

নতুব বছর উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে কিছু বাড়তি খাবার তৈরি করা হতো। কিন্তু কোন নতুন জামা-কাপড় কেনা হতো না। এই রীতি বহু যুগ আগ থেকেই বাংলাদেশের শহর-গ্রামে বিদ্যমান ছিল। মঙ্গলপ্রদীপ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ইলিশের কথাও শুনি নি। গ্রামের মানুষ তো প্রতিদিনই পান্তাভাত খেতো। আর নোয়াখালী অঞ্চলে ওই সময়ে সবচেয়ে বড় এবং নদী থেকে সদ্য ধরে আনা তাজা ইলিশের দাম ছিল বড়জোর আটআনা। তারপরেও কথিত কোন বাঙালী এমনকি হিন্দু বাঙালীরাও কোন পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খেয়েছেন এমন কথা শুনি নি। আমার প্রতিবেশী কিংবা সহপাঠী, নিত্যরঞ্জন, প্রিয়লাল মজুমদার, অনিল, রুহিদাস, বসন্ত, আরতি, অঞ্জলী এদের কারো কাছে কিংবা শিক্ষক রমনী কুমার, সতীশ শীল, মুরালী দাস, নির্মলচন্দ্র কর, খরেন্দ্র মালির মুখেও ইলিশ-পান্তার গল্প শুনি নি। এখন নব্য মুসলিম হিন্দুদের কাছে আমাদেরকে বাঙালীর ঐতিহ্যের নামে হিন্দুধর্মের আয়োজনকে বাঙালীর আবহমান ঐতিহ্য এমন কথা শুনতে হচ্ছে।

হিন্দুরা আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশির বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি যেমন আমাদের নয়, তেমনি তাদের সংস্কৃতিও আমাদের নয়। অতিকায় কিংবা অতি ক্ষুদ্র পশু-পাখি, জন্তু, সাপ, পেঁচা-হনুমান, গরু, হাতি ইত্যাদির মূর্তি-মুখোস কিংবা টিকি-পৈতা, ধুতি, বালা-সিঁদুর নিয়ে যে বাহারী মিছিল বের করা হয়- যার নাম দেয়া হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা- সেটাও আমাদের নয়। এইগুলোর কোনটাই আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির অঙ্গ বা উপাদান নয়। এইগুলোকে বাঙালী সংস্কৃতি হিসেবে বাংলাদেশী মুসলমানদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এমনকি এইগুলো এককভাবে বাংলাভাষী হিন্দুদের সংস্কৃতিও নয়। এইগুলো বাঙালী সংস্কৃতি হলে গুজরাটি, মারাঠি, তামিল তেগুলো হিন্দুরাও কেন এগুলোর অনুসারী? তারাও তো এগুলোকে দেব-দেবী মনে করে। দেবতা হিসেবে পুজা করে? এইগুলো যদি বাঙালি সংস্কৃতিই হয় তবে হিন্দু সংস্কৃতি কোন কোনটি? হিন্দু সংস্কৃতির একটি তালিকা দিন। দুটি তালিকা পাশাপাশি রাখুন। দেখিয়ে দিন কোনটি হিন্দু সংস্কৃতি আর কোন বাঙালী সংস্কৃতি। দুটি তালিকারই উপাদান ও উপকরণ অভিন্ন হবে। কথিত বাঙালী সংস্কৃতি ও হিন্দু সংস্কৃতির উপাদান একই রকমের। সর্বভারতীয় তো বটেই এমনকি জাভা, আন্দামান, মালয়, মরিশাস, শ্রীলংকার হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপাদান। হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসকেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে বাংলাদেশে বাঙালী সংস্কৃতি হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের সাংস্কৃতিকে মুছে ফেলা হচ্ছে।

ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের জের ধরে শেখ হাসিনা সরকার এখন এই রীতিকে গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, এমনকি মাদ্রাসাগুলোকে নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করতে বলা হয়েছে। মোল্লা-মৌলভীরা সরকারী ভাতা বন্ধের ভয়ে একান্ত অনুগত হয়ে গ্রাম পর্যায়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। এটা ‘র’ এর বিরাট বিজয়। ওরা যা বলবে আমরা অনুগত সেবকের মতো বিনা বাধায়, বরং আনন্দচিত্তে তা মেনে নেব। তারই একটি সফল মহড়া মুসলমানদেরকে দিয়ে অবিভক্ত ভারতে বিশ্বাসী হিন্দুদের সংস্কৃতি মুসলমানদের সর্বজনীন জাতীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এইভাবে তারা বিনা যুদ্ধে একদিন বাংলাদেশ দখল করবে।

আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আমাদের পৃথক সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে হবে। আমাদের সাংস্কৃতি স্বাতন্ত্র্য বিলীন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ভারত শাসিত বাংলার সংস্কৃতি অভিন্ন হলে আমাদের ভৌগোলিক স্বাতন্ত্র্য বিলীন হয়ে যাবে। অখন্ড ভারতের পুজারীরা তা-ই চায়। এই উদ্দেশ্যেই ভারত বাংলাদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দালাল কিনছে দালালদেরকে লালন করছে, তাদেরকে সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করে ভারতের অনুগত মজুরে পরিণত করছে।

এই গোষ্ঠীর অপকর্ম সম্পর্কে সজাগ থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে বাংলা নববর্ষে ভিন্ন কর্মসূচিী গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য যে স্বাধীন দেশের মূল ভিত্তি তা বুঝাতে হবে।

উল্লেখ্য বাংলা সন এবং বাংলা নববর্ষ মুসলমানদের তৈরি। জমির বার্ষিক খাজনা আদায় করার উদ্দেশ্যে সম্রাট আকবরের সময় পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে ধরা হয়। এখানে হিন্দুরা ভাগ বসিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের তৈরি। আমাদের একুশ আমাদের ভাষা দিবস ২১ এমনকি ত্রিশলাখ শহীদের রক্তের দান ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে হিন্দুরা ভাগ ভাগ বসিয়েছে। আমাদের সব সাফল্যই ওদের সাফল্য। আমাদের বিজয়কে ওরা ওদের বিজয় বলে উদ্যাপন করে। এরপরেও আমরা আমাদের বিজয় দিবসে সম্মান জানাই। ওদেরকে পুরস্কৃত করি। আমাদের শহীদদের রক্তদানকে আমরা প্রাকারন্তে অস্বীকার করছি। আমাদের সবকিছুই যেন তাদের, আমাদের কিছুই নেই। একদিন বলবে আমাদের দেশটাও তাদের, আমাদের নয়। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের ঢেউ সেদিকেই যাবে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন