আজ | সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯
Search

প্রচ্ছদ সংবাদ

৬৫  বার পড়া হয়েছে

একাই ১০০ দেশ ঘুরেছেন খুলনার আসমা

৫:২৪ অপরাহ্ন, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

  

chahida-news-1549625087.jpg

একলা, একেবারে একলা বেড়াতে বেড়াতে দুনিয়ার ১০০টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন খুলনার মেয়ে আসমা। বারো বছর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু। তার পরে ভারত আর নেপাল। তত দিনে বিশ্বদর্শনের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছে। বাড়ি থেকে পিছুটান আসেনি, বললে ভুল হবে। ‘মেয়েরা এ সব পারে না,’ প্রতিবেশী-স্বজনদের টিপ্পনী জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার পরে চলা... চলা... আর চলা কাজী আসমা আজমেরীর।

অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ ঘুরেছেন হিচ হাইক করে— ট্রাক, মোটরগাড়ি বা যে যানবাহন যখন জুটেছে, তাতে সওয়ার হয়ে। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ভিড়ে। হন্ডুরাসের ইউটিলার সৈকতে ক্যারিবীয় সাগরে পা ভিজিয়ে ভেবেছেন— দুনিয়ার সব সৈকত কেন এত সুন্দর হয় না! লরিতে দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে তার পর ১২ মাইল ধুলো ওড়ানো পথ হেঁটে পৌঁছে যান বলিভিয়ার ভালেগ্রান্দেতে। প্রত্যন্ত এই গ্রামের স্কুলে গুলি করে মারা হয়েছিল চে গুয়েভারাকে।

ফিজি, অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে বড় সুন্দর লেগেছিল দেশটিকে। কাজও জুটে গেল সেখানকার রেড ক্রসে। এখন বছর দেড়েক টানা কাজ করেন সেখানে আর অস্ট্রেলিয়ার পার্থে। তার পরে ৪ মাস বেড়ানো, এক মাস দেশে এসে বাবা-মা আর ভাইয়ের সঙ্গে থাকা। ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল, নেননি। লাল-সবুজ পাসপোর্টটাকেই আপন মনে করেছেন। সেই পাসপোর্টেই দেশ-বিদেশ ঘুরছেন।

বিপাকেও পড়তে হয়েছে। ভিয়েতনামে ঢোকার পরে ফিরতি বিমান টিকিট দেখতে চাওয়া হয়। অথচ কথা ছিল সড়ক পথে কম্বোডিয়া যাবেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট বলেই যে অভিবাসন কর্তারা কানে কথা তুলছেন না, তা বুঝতে দেরি হয়নি। ঠাঁই হল জেলে। ২৪ ঘণ্টা পর ফেরত পাঠানো হয় দেশে।

আবার তুরস্ক থেকে টুরিস্ট বোটে সাইপ্রাস যাওয়ার পরেও আসমাকেই বেছে আলাদা করা হল। তিনি যে থেকে যাবেন না, নিশ্চয়তা কী? সে বারও ডিপোর্ট করার আগে ২৭ ঘণ্টার জেল। তবু বাংলাদেশী পাসপোর্ট ছাড়েননি আসমা। বলেন, ‘ শুধুমাত্র বাংলাদেশি হওয়ার জন্য এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট বহন করার জন্য ভ্রমণের সময় বিভিন্ন জায়গায় অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল এবং অবহেলার মুখোমুখি হয়েছি। ইউরোপীয় বা অন্যান্য উন্নত দেশের মানুষ আমাদের চেয়ে অর্ধেক টাকা খরচ করে বিশ্বের সর্বত্র বেশি আতিথেয়তা পেয়ে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার অলঙ্কার বিক্রি করে ভ্রমণের যাত্রা শুরু করি। কারণ অলঙ্কার পরায় আমার কোনো লাভ হবে না। বাঙালি মেয়েরা শাড়ি কেনে, আমি কিনেছি টিকেট। আমি চাই আমার ভ্রমণ হোক দুঃসাহসিক। আর আমার ভ্রমণ থেকে আমি শিখতে পেরেছি যে আমি যথেষ্ট শক্তিশালী। মেয়েরা দুর্বল নামে যে ধারণা প্রচলিত তা ভুল।’

এর মধ্যে সব চেয়ে সুন্দর দেশ কোনটি? এক মুহূর্ত না-ভেবেই জবাব আসমার— মন্টেনেগ্রো। কী যে সুন্দর প্রকৃতি সেখানে!

বেড়ানোর পাশাপাশি অবৈধপথে দেশ ছাড়ার বিপদ নিয়েও প্রচার করেন আসমা। সারা জীবনের সঞ্চয় বাজি রেখে বেআইনি ভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমানো যে প্রাণঘাতী হতে পারে, দালালরা সে কথা বলে না। বিপন্ন মানুষদের ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিয়ে আসমা সাবধান করেন সবাইকে।

বন্ধুদের বলেন, বেরিয়ে পড়ো। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরেও যে কী সুন্দর একটা পৃথিবী রয়েছে দেখো। সভ্যতা, জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাসে কত বৈচিত্র, কত আনন্দ। যেখানে যান, সেখানকার খাবার চেখে দেখেন আসমা।

বিয়ের জন্য চাপ আসায় বাড়িতে বলেছিলেন, ৫০টা দেশ দেখে তবে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে পা রাখতেই ৫০ পূর্ণ হয়। এর মধ্যে গত অক্টোবরে তুর্কমেনিস্তানে ১০০ দেশ দেখা হয় তার। এখনো দেখা হয়নি সুইজারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডস। ভেবে রেখেছেন, বিয়ে করে বরকে সঙ্গে নিয়েই যাবেন ওই দুই স্বপ্নের দেশে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন