আজ | বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Search

বাসায় ফিরে ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকেন মিন্নি

১:৫৬ অপরাহ্ন, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

chahida-news-1567583776.jpg

১ মাস ১৮ দিন কেটে গেছে কারাগারে। বাসায় ফিরে চুপচাপ হয়ে গেছেন মিন্নি। ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকছেন স্বজনদের দিকে। কিছুই বলছেন না। কী যেন একটা চাপা কষ্ট ভর করে আছে তার বুকে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে চোখ বেয়ে বেরিয়ে আসছে পানি।

আক্ষেপ করে মিন্নির বাবা মোজ্জাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘একদিকে স্বামী হারানোর শোক, অপরদিকে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা। সব মিলিয়ে ভালো নেই মিন্নি।’

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শাহনেওয়াজ শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নি গ্রেফতারের ১ মাস ১৮ দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মঙ্গলবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

বিকাল সাড়ে ৪টায় বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর মেয়েকে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় মিন্নির চাচা মো. দুলাল ও আবু সালেহসহ স্বজন এবং আইনজীবীরা কারাফটকে ছিলেন।

বরগুনার জেলার মো. হুমায়ূন কবির মঙ্গলবার বিকালে বলেন, বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রিলিজ আদেশ পেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বিকাল সাড়ে ৪টায় জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

মিন্নিকে গ্রহণ করে কারাগারের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। সেখানে স্বজন ও আইনজীবীরা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। বের হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে মিন্নিকে নিজ বাড়ি নয়াকাটা মাইঠা গ্রামে নিয়ে যায়।

মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি মেয়েকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে উপস্থিত লোকজন ‘জেলখানায় কেমন ছিলেন’ জানতে চাইলে মিন্নি দ্রুত ঘরে ঢুকে যান। পরে মিন্নির বাবা আগত সবাইকে মিষ্টিমুখ করান।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা ও বাবার জিম্মায় থাকার শর্তে জামিন পেয়েছেন মিন্নি। জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিন্নিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এরপর থেকে চুপ হয়ে যান মিন্নি। বাসায় ফিরে বাবা-মা ছাড়া কারো সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বক্তব্য না দিলেও মিন্নি তার ওপর চালানো পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনের কথা বাবাকে জানিয়েছেন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন