আজ | সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯
Search

নূর আলমের বাঁচার সংগ্রাম

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ২:৪৯ অপরাহ্ন, ১ জুন, ২০১৯

chahida-news-1559378989.jpg

তার নাম নূর আলম। তার দু'টি পা আছে। কিন্তু সেই পা দিয়ে হাঁটাতো দূরের কথা, সোজা করে বসতেও পারেন না তিনি। যে পা দুটি তার শরীরের ভার বহন করার কথা, সেগুলোই আলমের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

কিন্তু এমন প্রতিবন্ধকতাও থামিয়ে রাখতে পারেনি নূর আলমকে। সুস্থ-স্বভাবিক মানুষের জন্যও যে কাজ কষ্টের, সেটিই গত ৬ বছর ধরে অনায়াসে করছেন তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে খিলগাঁও রুটে চলাচলকারী মিডলাইন পরিবহনের বাসে হেলপার-সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করেন আলম।

৩০ বছর বয়সী আলমের বাবার নাম মো. ইসমাইল। বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদী উপজেলার আন্ডারচর গ্রামে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ও ১ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বোর্ডঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তিনি।

আলম জানান, জন্মের পর থেকেই তার পায়ে কোনো শক্তি পান না। ছোট থাকতে বাবা-মা অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, অভাবের কারণে তৃতীয় শ্রেণির পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। এতগুলো ভাই-বোনের জন্য ঠিকমতো খাবারও জোগার করতে পারতেন না বাবা। কিন্তু এরপরও মানুষের কাছে হাত পাতিনি। পরে গ্রাম ছেড়ে ঢাকা চলে আসি। ঢাকা আসার পর কাজ খুঁজতে খুঁজতে সিটি পরিবহন বাসের মালিক খোকনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনিই আমাকে বাসে কাজ করার সুযোগ করে দেন। এরপর থেকেই সপ্তাহে ৪-৫দিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কখনো বাসের হেলপার, কখনোবা সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করি। এতে সারাদিনে ৫০০-৭০০ টাকা আয় হয় আমার। সেই আয় দিয়েই সংসার চালাই।

আলম জানান, শত বিপদেও মানুষের কাছে হাত পাততে ইচ্ছা করে না তার। কারো দয়ায় নয়, পরিশ্রম করে আত্মসন্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চান তিনি।

দীর্ঘদিন থেকেই আলমকে চেনেন মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, শীরর নয়, মনের শক্তিই সবচেয়ে বড়। এ কথা প্রমাণ করেছেন আলম। অনেকেই শারীরিক কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও মানুষের কাছে অনাসায়ে হাত পাতেন। কিন্তু আলম একেবারেই আলামা। কারো কোনো অনুগ্রহ নেন না। নিজেই পরিশ্রম করে জীবন চালান। সিনেমার নয়, নূর আলম বাস্তবের নায়ক।

মিডলাইন পরিবহনের বাসচালক ফয়েজ বলেন, সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেন আলম। তাছাড়া তার সততা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। তাই এই বাসস্ট্যান্ডের সবাই তাকে খুবই ভালোবাসেন। সবাই তাকে কাজে পেতে চান।

হেলপার অপু জানান, আলম কাজে ফাঁকি দেন না। এছাড়া যাত্রীদের সঙ্গেও কখনো খারাপ ব্যাবহার কিংবা তাদের ঠকান না তিনি।

সিটি পরিবহনের মালিক খোকন বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই মাদকাসক্ত। অনেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করে বাস মালিককে কম দেন। কিন্তু আলম তাদের থেকে একেবারেই আলাদা। মাদক তো দূরে থাক, আলম ধূমপানও করেন না। কখনো কাউকে ঠকান না।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন