আজ বৃহঃস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |
Search

প্রচ্ছদ জাতীয় সংরক্ষিত নারী আসনে আ’লীগের ১৫১০ আবেদনপত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ

৫০  বার পড়া হয়েছে

সংরক্ষিত নারী আসনে আ’লীগের ১৫১০ আবেদনপত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ

১:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

  

chahida-news-1549439356.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৩টিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার এ তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

১৫১০টি আবেদনপত্র চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বরাদ্দকৃত ৪৩টি আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক শেষে এ তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। ক্ষমতাসীন এ দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ প্রধান বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট এবং দলের নিজস্ব জরিপকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দশম জাতীয় সংসদে বঞ্চিত ২৫ জেলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

দশম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন না পাওয়া ২৫ জেলার জন্য ২৫টি আসন রাখা হয়েছে। ঢাকায় এবার দুটি আসন কমিয়ে ৬টি করার চিন্তা করা হচ্ছে। সে হিসাবে বাকি ১২টি আসনে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও আলোচিত নারী এবং পুরনোদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন জরিপ সংস্থার রিপোর্ট ও প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত দেখে যোগ্যদেরই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

গণভবন সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হওয়ার আশায় ১৫১০ আবেদনপত্র জমা পড়ে। আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী; অভিনেত্রী, হিজড়াসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া সমাজে বিশেষ অবদান রাখা নারীনেত্রী এবং প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতাদের সহধর্মিণী ও সন্তানরা সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীও কিনেছেন এ ফরম।

এসব আবেদনপত্র চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৪৩ জনের নামের একটি খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার একমাত্র এখতিয়ার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

তিনি অনেক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যোগ্যতম প্রার্থী বাছাই করছেন। সময়মতো এ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ত্যাগী ও দলের জন্য অবদান আছে- এমন প্রার্থীর মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

পাশাপাশি যারা এবারের নির্বাচনী প্রচারে কাজ করেছেন, তারাও মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেউ কেউ এ মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৪ মার্চ ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার কমিশনসভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১২ ফেব্রুয়ারি ও প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে ভোটের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে রাখা হলেও ফল জানা যাবে তার আগেই। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে দল ও জোটগতভাবে সমানসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে মহিলা আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে যে কোনো দল বা জোট ১টি সংরক্ষিত আসন পেয়ে থাকে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হবে।

এদিকে ইসি সচিব জানিয়েছেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, অন্যান্য দল ১টি (ওয়ার্কার্স পার্টি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবেন।

  

Post Your Comment