আজ | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Search

চীনে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশনা

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই, ২০২০

chahida-news-1595591745.jpg

তুঙ্গে উঠেছে মার্কিন-চীন উত্তেজনা। শুক্রবার চেংদু শহরে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে চীন। ‘আমেরিকান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষার্থে’ স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্র হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়ার জবাবে এ নির্দেশ দিয়েছে শি জিনপিংয়ের সরকার। তারা জানিয়েছে, মার্কিন নির্দেশনার ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ ছিল এ পদক্ষেপ। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই বেড়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০১৮ সাল থেকে বহুবার বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে ক’টনৈতিক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। চলতি বছর চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ইস্যুতেও বেইজিংকে দোষারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে।

গত মাসে হংকংয়ের উপর নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে চীন। এ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে উত্তেজনা। সর্বশেষ দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলেট বন্ধের ঘটনা তাদের দ্বন্দ্বকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক ঘোষণায় চীনের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, আজ চীন তাদের নিজদেশে কর্তৃত্ববাদ বাড়িয়ে চলছে ও বাকি সকল জায়গায় স্বাধীনতার প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ আরো আগ্রাসী করে তুলছে। স্বাধীন বিশ্বকে অবশ্যই নতুন এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতে হবে।

পম্পেওর বক্তব্যের পরই চীন চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশনা দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া অযৌক্তিক পদক্ষেপের বৈধ ও প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া ছিল এটি। দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি চীন দেখতে চায় না। এর জন্য পুরোপুরিভাবে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

চীনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক জানিয়েছেন, আগামী সোমবারের মধ্যে চেংদুর মার্কিন কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেটটি স্থাপিত হয় ১৯৮৫ সালে। বর্তমানে কনস্যুলেটটি কর্মচারীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এর মধ্যে ১৫০ জন স্থানীয়। কনস্যুলেটটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেই স্বায়ত্ত্বশাসিত তিব্বত অঞ্চল সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করে থাকে মার্কিন প্রশাসন। এ ছাড়া, চীনের শিল্প ও উঠতি সেবা খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৃষি, মোটরগাড়ি ও যন্ত্রপাতি বিক্রির সুযোগ্য স্থান হয়ে উঠছে চেংদু।

এদিকে, চীনের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশনার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার চার চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হয়েও সে বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন। এর মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরেকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেটে লুকিয়ে আছেন বলা জানা গেছে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন