আজ | শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Search

ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে যেতে ভারতের চুক্তি

কর্তারপুর করিডোর

৯:৫৪ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

chahida-news-1571932472.jpg

ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীরা ভিসা ছাড়া পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা একটি উপাসনালয়ে যেতে চুক্তি করেছে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ। খবর বিবিসির।

পাঞ্জাবের গুরুদুয়ারা দরবার সাহিবের জন্য চির বৈরী প্রতিবেশী দুই দেশ নতুন এই কর্তারপুর করিডর খুলে দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

'আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির' অভাবে একদিন পিছিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভারত পাকিস্তানের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্তারপুর করিডর ব্যবহারের বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এ করিডর দিয়ে পাকিস্তানের সীমান্ত পার হতে প্রতি তীর্থযাত্রীর জন্য ২০ ডলার ফি ধার্য করেছে ইসলামাবাদ। এ নিয়ে নয়া দিল্লি নাখোশ হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বিবাদেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব দেখতে যাওয়া শিখ তীর্থযাত্রীদের দিনে দিনেই ফিরে আসতে হবে বলেও জানিয়েছে তারা। এর অর্থ, কোন তীর্থযাত্রী দিনের যে সময়েই কর্তারপুর করিডর দিয়ে পাকিস্তানে যান না কেন, তাকে সেদিন সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হবে।

শিখ তীর্থযাত্রীদের কথা বিবেচনা করে গত বছরের শেষদিক থেকেই এই করিডর বানানোর কাজ শুরু হয়েছিল।

নির্মাণ কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নভেম্বরের শুরুতেই করিডরটি খুলে দেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।

শিখ মতবাদের উৎপত্তি পাঞ্জাবে; ১৯৪৭ সালে ওই অঞ্চলটি ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।

মতবাদটির উদ্ভাবকখ্যাত গুরু নানক ষোড়শ শতকে ভারতীয় সীমান্ত থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরের এ গুরুদুয়ারা দরবার সাহিবেই মারা যান বলে অনুমান তার অনুসারীদের। এ ধারণার উপর ভিত্তি করেই সেখানে শিখদের এ উপাসনালয় গড়ে উঠেছে।

মূল উপাসনালয়টি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১৯২৫ সালে সেটি ফের নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে পাকিস্তান সরকার সেটি পুনঃসংস্কার করে।

গত বছর থেকে এ উপাসনালয় ও এর আশপাশসহ মোট ৪২ একর জমিতে জাদুঘর, লাইব্রেরি, ডরমেটরি, লকার রুম, ইমিগ্রেশন পয়েন্টসহ বেশকিছু স্থাপনা নির্মাণে কাজ শুরু হয়।

তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কর্তারপুর করিডরটি ৯ নভেম্বর থেকে তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। এর তিন দিন পরেই গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকী।

গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব কর্তারপুর উপাসনালয়টির অবস্থান শিখদের কাছে গুরুদুয়ারা জনম আস্তানার পরেই। এটিও পাকিস্তানেই অবস্থিত।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন