আজ | সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯
Search

প্রচ্ছদ বিদেশ

৮৮  বার পড়া হয়েছে

সন্তানের জন্ম পেছালেন টিউলিপ সিদ্দিক

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ২:২৬ অপরাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৯

  

chahida-news-1547540775.jpg

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোটে অংশ নিতে দুদিন দেরিতে সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধী লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেন থাকবে কি না সেই ইস্যুতে আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র আহ্বানে চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, সন্তানসম্ভবা টিউলিপ সিদ্দিকের আজ-কালের মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। এজন্য উত্তর লন্ডনের একটি হাসপাতালে আজই লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল তার।

তবে সেই হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য যাওয়ার বদলে আজ ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোট দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন টিউলিপ। এজন্য এই অপারেশন দু’দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বামী ক্রিসের সাহায্য নিয়ে একটি হুইল চেয়ারে বসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন টিউলিপ।

ঝুঁকিপূর্ণ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘একদিন পর আমার ছেলে পৃথিবীতে আসলেও যদি এ বিশ্বে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার ভালো সুযোগ আসে, তবে তাই হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি-তখন আমি আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভাবছি, এই পৃথিবীতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছি।’ এর আগেও টিউলিপ সিদ্দিক একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তার নাম আজালিয়া, এখন বয়স দুই বছর।

হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন থেকে নির্বাচিত ৩৬ বছরে বয়সী এই লেবার এমপি ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আজ কালের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাকে সন্তান প্রসবের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে টিউলিপ সিদ্দিক বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ চাইলে চিকিৎসকরা তাতে সম্মতি দেন।

এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে খুবই স্পষ্ট। তবে এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা এবং আমি চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরামর্শের বিরুদ্ধেই এটা করছি।’

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাধারণত কোনো এমপি’র সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় আসন্ন হলে বা সদ্যজাত সন্তানের কারণে বা অসুস্থতার কারণে কোনো ভোটে অংশ নিতে না পারলে বিরোধী পক্ষেরও একজন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, যাকে ‘পেয়ার’ বলা হয়। কারও অনুপস্থিতি যেন ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে না পারে, তাই এই প্রথা।

তবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, গত গ্রীষ্মে ব্রেক্সিট বিষয়েই একটি ভোটের সময় এরকম একটি ‘পেয়ারড’ ভাঙার কারণে এই চলমান প্রথা মেনে চলার ব্যাপারে টোরিদের প্রতি আর বিশ্বাস নেই তার।

সম্প্রতি লেবার এমপি লিব ডেম সুইনসন সন্তান প্রসব করার কারণে বিরোধী টোরি দলের চেয়ারম্যান মিস্টার ব্রানডন লুইসের সঙ্গে ‘পেয়ারড’ করেছিলেন, যাতে তিনি সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকে সময় দিতে ভোট না দিয়ে বাড়িতে থাকতে পারেন। চুক্তি অনুযায়ী, মিস্টার লুইসেরও ভোট দিতে যাওয়ার কথা না। তবে এই চুক্তি ভঙ্গ করে শেষ পর্যন্ত মিস্টার লুইস নিজের পক্ষে ভোট প্রদান করেছেন। তবে দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে বড় ভুল বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং থেরেসা মে নিজে এজন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

লেবার এমপি হ্যারিয়েট হারম্যান ও হাউজ অব কমন্স স্পিকার জন বারকাউ পূর্ণ গর্ভাবস্থায় টিউলিপ সিদ্দিকের হুইল চেয়ারে বসে ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্সি ভোটিংয়ের তীব্র দাবি জানিয়েছেন। স্পিকার জন বারকাউ বলেছেনে, প্রক্সি ভোটিং চালুর করার ব্যাপারে দলের প্রধানরা রাজি হলে মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক ভোটের আগে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রক্সি ভোটে সম্মত হবেন তিনি এবং এটি হবে একটি ঐতিহাসিক ভোটের আগে আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

তবে লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, এই ঘটনা ‘পেয়ারিং সিস্টেম’র প্রতি তার বিশ্বাসকে টলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ভোটে (ব্রেক্সিট ইস্যুতে) খুব হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। ভোট দেওয়ার জন্য আমার ওপর কোনো চাপ নাই কিন্তু আমার জীবনকালে দেখা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এটি। আমি এ ব্যাপারে আমার স্বামী ক্রিসের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সে আমাকে বলেছে যে, এটি সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছার ব্যাপার কিন্তু সে আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে।’

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ভোটের তারিখ পিছিয়ে দেন। দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে ব্রেক্সিট সমর্থনে সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এই ভোটে প্রধানমন্ত্রী হেরে যেতে পারেন বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও শেখ রেহানার মেয়ে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। 

  

আপনার মন্তব্য লিখুন