আজ | রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Search

উড়োজাহাজে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ

৯:৪৫ অপরাহ্ন, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

chahida-news-1573832704.jpg

দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। শুক্রবার মন্ত্রণালয়টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। টিসিবি'র মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এ পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। পেঁয়াজ আনতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি অল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া সমুদ্রপথে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাংলাদেশের পথে রয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর ও চট্রগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ পরিবহনে কয়েকদিনের জন্য সমস্যা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। কেউ পেঁয়াজ অবৈধ মজুত করলে, কারসাজি করে অতি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার অভিযান জোরদার করেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি আরও জানায়, আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। স্থল ও নৌবন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সে অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকালে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন জানান, যতদিন পর্যন্ত বাজার স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এয়ার কারগোতে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। সচিব বলেন, ‘সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানির জন্য একজন উপ-সচিবকে তুরস্কে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া আরও একজন উপ-সচিব মিশরে রয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। উৎপাদিত এ পেঁয়াজের ৩০ শতাংশ আবার সংরক্ষণ অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকেই হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে এই উৎপাদনের হার প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন। ভারত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে। যার একটি বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশে।

এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে নূন্যতম রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে দেশে তাহেরপুরী, বারি-১ (তাহেরপুরী), বারি-২ (রবি মৌসুম), বারি-৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনো না কোনো জাতের পেঁয়াজ উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৯ লাখ টন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। আর ভারত থেকে আমদানি করা হয় চাহিদার বাকি অংশ। আর আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজই দর উঠানামায় বড় ভূমিকা রাখে।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে গত ২০ বছর ধরে প্রতিবছর বাংলাদেশ ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করে। ভারতে যখন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে তখন তারা আমদানি বন্ধ করে দেয়। ফলে বাংলাদেশে এর দাম বেড়ে যায়।

দেশে পেঁয়াজের দাম কমাতে এর উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষকদের স্বল্প সুদের ঋণ দিতে হবে। কৃষি পরামর্শ দিয়ে তাদের পেঁয়াজ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে হবে। ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সর্বোপরি সরকারকে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিতে হবে। আর তাৎক্ষণিকভাবে দামের লাগাম টানতে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন