আজ | রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯
Search

ইরানের পরমাণু চুক্তি বাতিল হলে ধাক্কা খাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য

১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

chahida-news-1508046952.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত শুক্রবার ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে আবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন ইরান চুক্তির প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখাচ্ছে না, আর তাই ২০১৫ সালে সম্পাদিত এ চুক্তি তিনি বাতিল করে দেবেন। এ চুক্তি বাতিল হলে এর সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ক্ষতি যে কেবল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত হবে তা-ই না, বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এটি হবে বড় আঘাত। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতি-বিষয়ক এক ভাষণে ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, ইরান যে চুক্তি মেনে চলেছে তা কংগ্রেসে প্রত্যয়ন করবেন না তিনি, যা তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ উন্মুক্ত করতে পারে। সেটি হলে ২০১৫-এর পর যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখছিল, তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হয়ে আসবে।

ইরানের পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করা এ চুক্তির উদ্দেশ্য। এর শর্ত মোতাবেক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হবে এ শর্তে যে, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখবে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে সেটি কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপ, রাশিয়া ও চীনের ব্যবসায়ীদের জন্য আট কোটি লোকের ইরানি বাজার উন্মুক্ত হয়। এ চুক্তি বাতিলের ফলে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে।

জার্মানি

নিষেধাজ্ঞার আগে জার্মানি ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ২০১৬ সালে ইরানে জার্মানির রফতানি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ফেডারেশন অব জার্মান ইন্ডাস্ট্রির (বিডিআই) ভাষ্যমতে এটি বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে সিমেন্স গ্রুপ ইরানে পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে এবং ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মাপনার সঙ্গে একটি জ্বালানি চুক্তি করে।

মার্সিডিজ বেঞ্জ ট্রাক উত্পাদন ও বিপণনের লক্ষ্যে ডেইমলার দুটি ইরানি গ্রুপের সঙ্গে একই বছরের জানুয়ারি মাসে চুক্তি করতে আগ্রহী এ রকম দুটি পত্র স্বাক্ষর করে।

বিডিআই এক বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে যেসব কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও সক্রিয়, তারা নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভয়ানকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

ফ্রান্স

মূলত তেল রফতানির কারণে এ দুই দেশের বাণিজ্য ২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ২৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পুজো-সিতরোয়েন (পিএসএ) ২০১২ সালে ইরান ত্যাগে বাধ্য হয়েছিল, কিন্তু ২০১৬ সালে প্রত্যাবর্তন করে তারা ৭০ কোটি ইউরোর উত্পাদন চুক্তি সম্পন্ন করে। আরেক কোম্পানি রেনো ইরানে বছরে প্রায় দুই লাখ গাড়ি নির্মাণ করে এবং একটি যৌথ চুক্তি সম্পাদন করে এ উত্পাদন বাড়িয়ে তিন লাখ করার পরিকল্পনা করেছে।

প্রথম ইউরোপীয় তেল গ্রুপ হিসেবে একযুগ পর ইরানে প্রত্যাবর্তন করে টোটাল। এ বছরের জুলাই মাসে কোম্পানিটি চীনের সিএনপিসির সঙ্গে মিলে ৪৮০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন করে।

ইতালি

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতালি ও ইরানের বাণিজ্যে ধস নামে। তবে ২০১৬ সালে সেটিতে এতটাই উন্নতি দেখা যায় যে, ইইউয়ে ইতালিকে ইরানের প্রথম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালে রোম ও তেহরান পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রেলওয়ে খাতে অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষর করে।

রাশিয়া

মস্কো ও তেহরানের মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় আছে। রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে ইরান তার দ্বিতীয় পরমাণু প্লান্ট নির্মাণ করছে। এ বছরের মার্চে রাশিয়ান কোম্পানি আরজেডি ইন্টারন্যাশনাল ইরানের রেললাইনের বিদ্যুতায়ন করার জন্য ১২০ কোটি ইউরোর একটি চুক্তি করে। ২০১৬ সালের জুনে ইরানের ফারজাদ গ্যাসক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রমের জন্য গ্যাস জায়ান্ট গ্যাজপ্রম ইরানি একটি কোম্পানির সঙ্গে এনওসি সই করে।

চীন

তেল আমদানিকারক চীনের প্রেসিডেন্ট ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উত্পাদনকারী দেশ ইরান সফরে গিয়ে পরমাণু জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর এক মাস পর চীনের নির্মাতারা উচ্চগতিসম্পন্ন তেহরান-মাশাদ রেললাইনের বিদ্যুতে চলার কাজ শুরু করে। চলতি মাসে ইরানি গ্রুপ তাভানেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিশ কুর্দি চীনের সঙ্গে মিলে ইরানের বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সংস্কারের ঘোষণা দেন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন