আজ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০
Search

প্রধান আসামির স্বীকরোক্তি

বিবস্ত্র করে গৃহবধূকে নির্যাতন

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১০:০৪ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর, ২০২০

chahida-news-1602432245.jpg

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় প্রধান আসামি বাদল ও সাজুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে মামলার অপর আসামি রহমত উল্যাহসহ তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্তদল ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান, রোববার বিকেলে তিন আসামির মধ্যে চারদিনের রিমান্ড শেষে রহমত উল্যাহকে (বাদলের বাবা) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধান আসামি বাদল ও সাজুকে নির্যাতনের মামলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে আদালতের জ্যেষ্ঠ হাকিম মাসফিকুল হক ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের পর্নগ্রাফি মামলায় ৫ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করলে আদালতের জ্যেষ্ঠ হাকিম নবনীতা গুহু ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই নোয়াখালীর পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী জানান, সকালে তিনিসহ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ঘটনস্থল থেকে তিনটি বালিশ, বিছনার চাদর, বিছানা, পাশের একটি বাড়ি থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তির নামের একাধিক জন্মতারিখ দেওয়া বেশ কয়েকটি জন্ম নিবন্ধনকার্ডসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ঘটনার দিন বাদলের পরণে থাকা প্যান্টও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নে এসে তাদের ঘরে ঢোকেন। বিষয়টি দেখতে পান স্থানীয় মাদকব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। পরে রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পর পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ তোলেন। এ সময় তারা ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। গত ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে ৮ অক্টোর বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূর দায়ের করা নির্যাতন ও পর্নগ্রাফি মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন