আজ | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
Search

রংপুরে আউশ চাষে রেকর্ড

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ২৬ জুন, ২০২০

chahida-news-1593185655.jpg
ফাইল ছবি

রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুক্রবার (২৬ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০-২১ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। ৫৯ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৬৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।২০০০-০১ মৌসুমে এ অঞ্চলে আউশ আবাদ হয় ২৫ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে। এর পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমাগত আউশ আবাদের এলাকা কমতে থাকে। ২০০৯-১০ মৌসুমে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়। ২০০৯-১০ সালের আউশ আবাদের তুলনায় এবার আবাদ হয়েছে প্রায় ৫ গুণ বেশি। আউশ আবাদের এলাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি হেক্টর প্রতি গড় ফলনের পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে হেক্টর প্রতি চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন। সেখানে গত ২০১৮-১৯ মৌসুমে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৪ মেট্রিক টন।

এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৩ দশমিক শূন্য ৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হলে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা থেকে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন চাল চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদিত হবে। যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন বেশি। ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আউশ আবাদকে জনপ্রিয় করতে বর্তমান সরকারের নানান পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে আউশ আবাদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে রবি ফসল আবাদের পরে পরবর্তী রোপা আমন আবাদের আগে মে মাস থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত সময়ে পানি সাশ্রয়ী বৃষ্টিনির্ভর আউশ আবাদ করা যায়।

বিগত কয়েক বছরে সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা, উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে সেচ সাশ্রয়ী আউশের আবাদে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। যথাসময়ে কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় আবাদের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং এতে কাঙ্খিত ফলন ও উৎপাদন পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি উফশী জাতের আউশ বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। আর ২৪ হাজার ৮০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ও বিনা থেকে ১ হাজার ৯০০ কেজি বীজ সংগ্রহ করে বিনামূল্যে ৩৮০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, এ অঞ্চলে জমির প্রায় অর্ধেক ‘বোরো-পতিত-রোপা আমন’ শস্যবিন্যাসের আওতায় রয়েছে। এই শস্য বিন্যাসের মধ্যে আউশ উপযোগী জমিকে আউশভিত্তিক তিন ফসলী জমিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে মাঠ পর্যায়ে। এর ফলে আউশের আবাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এ অঞ্চলে শষ্যের নিবিড়তা বাড়বে। তিনি আরও জানান, উপজেলা এবং ব্লক পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে আউশ আবাদে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে জমি তৈরিতে জৈব সার ও সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ, মানসম্পন্ন আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার করে আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন, সঠিক বয়সের চারা সারিতে ও সঠিক দূরত্বে রোপন, চারা রোপনে লোগোবো পদ্ধতির অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্পূরক সেচ প্রদানসহ অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা যেন যথাযথভাবে নেয়া হয় তার জন্য কৃষকের সাথে সংযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন