আজ | সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
Search

রোহিঙ্গা সংকটে চীন-ভারত রাশিয়ার অবস্থান

এম সাখাওয়াত হোসেন | ১১:১১ পূর্বাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

chahida-news-1506402688.jpg

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রধানত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গানিধনের যে চিত্র এবং রোহিঙ্গা সংকটের আবর্তে বাংলাদেশ, তা বিশ্বের জনগণের সামনে বিশ্ব মিডিয়া যেভাবে তুলে ধরেছে, তেমনটা এর আগে ঘটেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুটি একবিংশ শতাব্দীর এক মানবেতর পরিস্থিতি, যে পরিস্থিতি শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির ইহুদিনিধনের তত্ত্ব ‘ফাইনাল সলিউশন’-এর সঙ্গে তুলনাযোগ্য। নাৎসি জার্মানির এই তত্ত্বের প্রবক্তা এসএমপ্রধান হাইনরিখ লুইটপোল্ড হিমলারের মতো করেই ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, এবারই রাখাইনে ‘বাঙালি সমস্যার সমাধান করা হবে’। মিয়ানমারের কথিত ‘বাঙালি’ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাদের দেশের হাজার বছরের একটি জাতিগোষ্ঠীর ওপর যে অত্যাচার করছে, তা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে।

ওই অত্যাচার জাতিসংঘ ‘এথনিক ক্লিনসিং’ বলে আখ্যায়িত করছে, যাতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ প্রায় লাখ শরণার্থীকে জায়গা দিয়েছিল। তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ লাখের মতো হয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য নানাবিধ সংকট। এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ অনেক রাষ্ট্রই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মিয়ানমারের এই বর্বরতার নিন্দা জ্ঞাপন করে এ সংকট নিরসনে এক ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিচিত চীন ও ভারতের সঙ্গে রাশিয়া বাংলাদেশের এ সংকটকালে মিয়ানমারের সামরিক শক্তি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক তথাকথিত বেসামরিক সরকারের এমন মানবেতর কর্মকা- ও মিয়ানমারকে প্রত্যক্ষভাবে রোহিঙ্গানিধনে সমর্থন দিয়েছে। এই তিন দেশের এ আচরণে শুধু বিশ্ববাসী নয়, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানসহ সার্বিকভাবে জনগণ দারুণ হতাশ হয়েছেÑ এতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের অতিনিকটের বন্ধু ভারত প্রায় চার দশকের বন্ধু চীন এবং পুরনো বন্ধু রাশিয়া, যার সঙ্গে বিগত বছরগুলোয় পুরনো বন্ধুত্ব ঝালাইয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও বহু বিলিয়নের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এমন অবন্ধুসুলভ আচরণের জন্য প্রস্তুত ছিল না বাংলাদেশ। তাছাড়া ভারত আমাদের দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে সহযোগিতা করেছে, সে সুবাদে শুধু আন্তঃসীমান্তবর্তী বন্ধুই নয়, অকৃত্রিম বন্ধু বলেই পরিচিত। তবুও দিল্লির সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক যে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তেমনটা অতীতে কখনোই ছিল নাÑ এমন কথা দিল্লির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির বিশ্লেষকরা একবাক্যে স্বীকার করেন।

বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের ভূরাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আঙ্গিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের পথ বাংলাদেশের ভূখ-ের ওপর দিয়েই খুলে দেওয়া হয়েছে। এরই কারণে উত্তর ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ ভূকৌশলগত আঙ্গিকে বিপজ্জনভাবে ও গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেননেক’ বলে আখ্যায়িত ভূখ-ের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমে যাবে। অন্যদিকে সহজ হয়ে উঠেছে স্থলপথ ও সমুদ্রপথে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ। উত্তর-পূর্ব ভারতের এসব রাজ্যে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন স্তিমিত করতেও সহায়তা করেছে বাংলাদেশ। এ সুবিধাদি পেতে ভারতকে প্রায় চার দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। অথচ ওই ভারত সরাসরি রোহিঙ্গানিধনের পক্ষে মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনটা বাংলাদেশের আপামর জনগণ আশা করেনি। রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বলেই মনে করে মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ওই মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। চীনের অবস্থা প্রায় একই। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের পূর্ব-উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমপ্রান্তে এ দুটি দেশের বিশাল সীমান্ত রয়েছে। এ দুই দেশের সীমান্তেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের আন্তঃসীমান্তের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার এবং পূর্ব ভারতের চারটি রাজ্যলাগোয়া অরুণাচলÑ যে ভূখ- নিয়ে চীনের সঙ্গে বিবাদ রয়েছে, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও মিজোরাম। এ প্রতিটি রাজ্যেই কমবেশি ইমারজেন্সির মাত্রা বর্তমানে কম হলেও একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে বলা যায় না। এর মধ্যে মিজোরাম আর নাগাল্যান্ডে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অনেক পুরনো। বিগত বেশকিছু বছরে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতায় এ অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অনেকটা স্তিমিত। ২০১৫ সালে নাগাবিদ্রোহী এনএসসিএন-কে (ঘঝঈঘ-ক) গ্রুপ মনিপুরের বা-েল নামক জায়গায় হাত লাগিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৮ সদস্যকে হত্যা করার পর ভারতীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ চলে মনিপুর-নাগাল্যান্ড সীমান্তে মিয়ানমারের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্যাম্পে। মিয়ানমার সরকার ওই আক্রমণে ভারতকে সহযোগিতা করেছিল। তবে ভারত-মিয়ানমার যৌথ ভূকৌশলগত সহযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে।

কালাদান নদী দিয়ে রাখাইন অঞ্চলের রাজধানী সিতওয়ে থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামের মধ্য দিয়ে লম্বা এক ‘মাল্টিমোড আল’ বা বহুমাত্রিক যোগাযোগ স্থাপনার পরিকল্পনার মাধ্যমে, যার নাম কালাদান মাল্টিমোডা ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কলকাতার হলদিয়া বন্দর থেকে সরাসরি রাখাইন অঞ্চলের ‘সিতওয়ে’ বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উত্তর ভারতের সঙ্গে পণ্য বহন হবে, যাতে ভূকৌশলগত এবং চীনের ভূখ-ের কক্রিকেটের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন লেকের ওপর নির্ভরযোগ্যতা কমানো যায়। একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের আরও সংক্ষিপ্ত পথ তৈরি করা হয়েছিল। কালাদান দৈর্ঘ্য প্রজেক্ট বঙ্গোপসাগর হয়ে এই পথের দৈর্ঘ্য হবে ১ হাজার ৫৩৯ কিলোমিটার। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করে ত্রিপুরার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথের দৈর্ঘ্য কলকাতা-ত্রিপুরা মাত্র ৪০০ কিলোমিটার। এ পথও ওই একই শিলিগুড়ি করিডোর ব্যবহার হ্রাস করানোর উদ্দেশ্যে। ভারতীয় ভূকৌশল বিশারদদের মতে, এতে চীনের তরফ থেকে শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর হুমকি এলে এসব পথ ব্যবহার হবে বলে ধারণাকল্পে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের ভেতরের এই সংক্ষিপ্ত পথের বিপরীতে এত দুর্গম ও বিশাল দৈর্ঘ্যরে পথ কেন? এখানেই মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত যোগাযোগের কারণ অন্তর্নিহিত। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে হয়, কালাদান প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে এবং ভবিষ্যতে ভারত-চীন যে কোনো সংঘর্ষে বাংলাদেশের অনিশ্চিত প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে এই বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখা। দ্বিতীয় অন্তর্নিহিত কারণ, সিতওয়ের অদূরে চীন নির্মিত পশ্চিম মিয়ানমারের কিয়াকিপু দ্বীপের গভীর সমুদ্র নির্মাণ চালু করা ও সিতওয়ে বন্দরের দক্ষিণ থেকে চীন কর্তৃক নির্মিত ৭৭১ কিলোমিটার চীন-মিয়ানমার জ্বালানি তেল এবং ২ হাজার কিলোমিটারের উপরের দৈর্ঘ্যরে প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান্তরাল পাইপলাইন চালু করার প্রেক্ষাপট।

ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে আরব মহাসাগর এবং পাকিস্তানের ভূখ- ব্যবহার করে ভারতকে চীন যে বেষ্টনীর মধ্যে ফেলেছে, এর প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টায় কালাদান প্রজেক্টের মাধ্যমে ভারতের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মোদির অ্যাক্ট ইস্ট প্রকল্পের আওতায় ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড যোগাযোগ স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে বলে তথ্যে প্রকাশ। যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়াও মিয়ানমারে চীনের অতীতের একচ্ছত্র প্রভাববলয়ে কিছুটা ফাটল ধরায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর চীনের প্রভাবে অনেকটা ভাটা পড়ায় ভারত সমরাস্ত্র সরবরাহের পথে রয়েছে। ২০১৬ সালে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের ৮ দিনের সফর এবং হালের মিয়ানমারের নৌবাহিনীপ্রধানের সফর এ প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায়, ভারতের কাছে বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব কমানো এবং এ অঞ্চলে চীন-ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কারণে ভারত-মিয়ানমার বহুমাত্রিক সম্পর্কের গুরুত্বের ওজন বাংলাদেশের তুলনায় ভারী ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া চীনের গভীর সমুদ্রের কাছাকাছি রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ের কাছে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন (ঝঊত) গঠনের প্রকল্প নিয়েও ভারত এগিয়ে গেছে। যেহেতু ভারতের জন্য রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উত্তর রাখাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে যে কোনো বিশৃঙ্খলা ভারতের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সম্ভাব্য ওই কৌশলগত কারণেই মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।

অন্যদিকে গত চার দশক মিয়ানমারের পাশে যে রাষ্ট্রটি এককভাবে অকুণ্ঠ সমর্থনে ছিল, এর নাম চীন। চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক শুধু সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেই গড়ে ওঠেনিÑ গড়ে উঠেছিল উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারে ব্যাপক হারে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান ভয়াবহ বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। বিভিন্ন সূত্র ও গবেষণায় প্রকাশ যে, অনেক শক্তিশালী বিচ্ছিন্নবাদী গোষ্ঠীর শক্তিশালী হওয়ার পেছনে চীনের অস্ত্র ও অর্থের সরবরাহই প্রধান ছিল। তা এখনো রয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১৪টি সংগঠন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে এবং অধিক শক্তিশালী ৮টি বিচ্ছিন্নবাদী সংগঠন চীন সীমান্ত সংলগ্ন কাচিন ও সান স্টেটে যুদ্ধরত। ২০১৫ সালে কোকাং অঞ্চলে বিচ্ছিন্নবাদীদের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধে মিয়ানমারের সেনার ৬৬ লাইট ডিভিশন প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ওই একই অঞ্চলে এ বছরের প্রথম দিকে যুদ্ধে পাঁচশর উপরে মিয়ানমারের সেনা হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায় ‘এশিয়া নিউজ’-এ প্রকাশিত ওই অঞ্চল বিশেষজ্ঞ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বার্টিন লিটনারের রিপোর্ট থেকে। এর পেছনে চীনের সমর্থন যে রয়েছে, এতে মিয়ানমার সরকারের সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। তবুও মিয়ানমারের পক্ষে চীনের সহযোগিতা যেমন বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তেমনি মিয়ানমারকে চীন কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় এবং সম্ভবও নয়।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্কের ফাটলের মধ্যেই প্রবেশ রাশিয়ার। রাশিয়ার উদ্দেশ্য এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক। মিয়ানমার বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই ১০টি মিগ-২৯ ও বেশকিছু এমআই-৩৫ হাইল্ড আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার কিনেছে এবং স্থলবাহিনীর পরিবর্তে ইনসারজেন্টদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাই মুখ্য কৌশলে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের মিগ যুদ্ধবিমান বিক্রয়ের জন্য অফিসের উপস্থিতি রাশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার করে দেয়। সমরাস্ত্র ছাড়াও রাশিয়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তেল-গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করা ও উন্নয়ন করার জন্য রাশিয়ার সরকারি কোম্পানি ‘গ্যাজপ্রম’ মিয়ানমারের উপস্থিত রয়েছে। রাশিয়া ইদানীং মিয়ানমারের প্রায় ৭০০ ছাত্রকে ওই দেশে পারমাণবিক অস্ত্রে শিক্ষিত করেছে এবং দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্মারক চুক্তি করেছে। মিয়ানমার বর্তমানে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রাশিয়া, ভারত ও ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে বলে প্রতীয়মান। এমনকি পাকিস্তানও এ সুযোগের সৎব্যবহার করতে ইতোমধ্যেই এফজে-১৭ (ঋঔ-১৭) যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছে এবং উৎপাদনের জন্য কারখানা তৈরি করতে প্রস্তাব দিয়েছে।

উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনার উপসংহারে বলা যায়, রাখাইনের সবচেয়ে অসহায় জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বের বহু দেশের মতো ওই তিনটি দেশের উদ্বিগ্ন হয়ে মিয়ানমারকে তা খুশি করে বাংলাদেশের পেছনে দাঁড়ানোর কোনো সঙ্গত কারণ নেই, থাকার কথা নয়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আন্তঃদেশীয় বন্ধুত্ব জাতীয় স্বার্থের উপরে নয়। শুধু বর্তমানেই নয়, অতীত ও ভবিষ্যতেও এটিই ছিল, আছে এবং আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের মূল বিষয় হয়ে থাকবে। নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানো বা তার স্বার্থ চরিতার্থ করা কতখানি যৌক্তিক, তা ভেবে দেখার বিষয়। কোনো দেশই ওই কাজটি করেছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে কিনা, তা জানা নেই।

এম সাখাওয়াত হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার, কলাম লেখক ও পিএইচডি গবেষক

  

আপনার মন্তব্য লিখুন