আজ সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ খেলা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশের বিজয় নিশান

৬৩  বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশের বিজয় নিশান

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্রিকেট খেলার প্রথম অভিজ্ঞতা

১২:০১ অপরাহ্ন, ৫ আগস্ট, ২০১৮

  

chahida-news-1533448869.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্রিকেট খেলার প্রথম অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতায় মিশে রইলো বিজয়ের সুবাস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ উড়াল বিজয় কেতন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোববার ক্যারিবীয়দের ১২ রানে হারিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।

টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। এই জয়ে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার সাকিব, তামিম, মুশফিকদের সামনে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি।

তামিম ইকবালের ব্যাটে রান মানেই বাংলাদেশের স্বস্তি। তামিমের রান পাওয়ার ম্যাচে জিততে না পারলেও ভালো সংগ্রহ দাঁড়িয়ে যায়। এই ম্যাচেও তেমন হয়েছে। ৪৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৪ রানের দুর্বার এক ইনিংস খেলেছেন ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বাংলাদেশের এই ওপেনার। ম্যাচসেরা তামিমের সঙ্গে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ঝড়ো গতির ৬০ রানে পাঁচ উইকেটে ১৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ১৫৯ থেমে যায় উইন্ডিজের ইনিংস।

১৭২ রান তুলে বল হাতেও দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় সুযোগ পাওয়া আবু হায়দার রনি প্রথম ওভারে দারুণ বোলিং করেন। খরচা করেন মাত্র এক রান। পরের ওভারে একই পথে হাঁটা মুস্তাফিজুর রহমান ফিরিয়ে দেন এভিন লুইসকে। দারুণ শুরুর সুযোগটা কাজে লাগাতে তৃতীয় ওভারে রুবেল হোসেনকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসেনি। আন্দ্রে রাসেলের তোপে পড়তে হয় বাংলাদেশকে।

তবে এই তোপ বেশি সময় টেকেনি। তাণ্ডব চালানো আন্দ্রে রাসেলকে থামিয়ে স্বস্তি ফেরান মুস্তাফিজ। রাসেলের পথে হাঁটার চেষ্টা করেছেন মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু সেটা হতে দেননি সাকিব। ৩ বলে ১০ রান করা স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপর রভম্যান পাওয়েল অনেকটা সময় চোখ রাঙিয়েছেন। যদিও তার ৪৩ রান যথেষ্ট হয়নি। শেষ ওভারে গিয়ে হার মেনে নিতে হয়েছে টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়দের। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ ও‍ নাজমুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। সাকিব দুটি ও রুবেল হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

এরআগে টস হেরে ব্যাটিং করা নামা বাংলাদেশ মনের মতো শুরু পায়নি। জায়গা বদলে ওপেনার হিসেবে নামা লিটন কুমার দাস শুরুতেই হতাশ করেছেন। পাঁচ বল খেলা লিটন দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান। শুরুতেই উইকেট হারানোর ব্যাপারটি হয়তো মাথায় নেননি মুশফিকুর রহিম। উইকেটে গিয়েই অস্থির হয়ে উঠেন তিনি। ফল হিসেবে তাকে বিদায় নিতে হয় মাত্র চার রান করেই।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট হাতে নিজের ছায়া হয়ে থাকা সৌম্য সরকার এদিন ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও ধীর-স্থির মেজাজের সৌম্য পারেননি ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে। ১৮ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়েও বিপাকে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অনেকটা স্থায়ী জুটি গড়ে নেওয়া তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দলের হাল ধরেন।

এই জুটিতে বড় সংগ্রহ গড়ার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে রানচাকা ঘোরাতে থাকেন তামিম ও সাকিব। ৯০ রানের জুটি গড়ার পথে উইন্ডিজ বোলারদের পাত্তাই দেননি এই দুজন। এসময় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। হাফ সেঞ্চুরির পর আরও চড়াও হন দেশসেরা এই ওপেনার। ১৬তম ওভারে গিয়ে তামিম শো থামে। এরআগে ৪৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তামিম।

তামিম ফেরার পর বাকিটা সময় রাজত্ব করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিন বল বাকি থাকতে আউট হওয়া সাকিব খেলেছেন ৩৮ বলে নয়টি চার ও একটি ছয়ে ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করতে পারেননি। ১০ বলে অপরাজিত ১৩ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। উইন্ডিজের অ্যাশলে নার্স ও কেসরিক উইলিয়ামস দুটি করে উইকেট নেন।

  

Post Your Comment