আজ শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ খেলা নেইমার ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

৮৮  বার পড়া হয়েছে

নেইমার ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

অনলাইন | ১০:১১ অপরাহ্ন, ২ জুলাই, ২০১৮

  

chahida-news-1530549202.jpg

এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যেসব ম্যাচে নেইমার গোল করেছেন তার কোনোটি হারেনি ব্রাজিল। আবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জেতেনি মেক্সিকো। শুধু তাই না, এই আসরের জায়ান্ট কিলার এবং প্রতিভাবান দলটি কোনো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে কখনো জিততে পারেনি। আরো আছে। গেল ৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বাদ পড়েছে তারা। এবারও তাই হলো। নেইমার একটি রেকর্ড গোলের জন্ম দিলেন গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট পরই। আর সেই গোলেই ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল ব্রাজিল। ১-০ গোলের হারে 'কুফা' শেষ ষোল থেকেই বিদায় মেক্সিকোর।

সোমবার ভোলগা নদীর কাছের শহর সামারায় সমানে সমান প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধটাও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। হয়েছে গতির খেলা। কিন্তু প্রথমার্ধের শুরুতে প্রবল গতিতে ঝড়ের মতো আক্রমণে গিয়েই বুঝি ক্লান্তির মুখে পড়েছিল মেক্সিকানরা। তাদের ক্লান্ত করে তারপরই গোছানো আক্রমণে গেছে রেকর্ড ৫বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তারপরও গোল পায়নি।

বিরতি থেকে ফিরেই অন্য ব্রাজিল, অন্য নেইমার। চেনা ব্রাজিল, চেনা নেইমার। ম্যাজিকাল নেইমার। শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচও। ৪৮ মিনিটে কুতিনহো নেইমারের কর্নার থেকে একটুর জন্য গোল মিস করলেন। কিন্তু ৫১ মিনিটে ৫১ মিনিটে নেইমার এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় গোল করে ১-০ গোলের লিড এনে দিলেন। উৎসবমুখর ব্রাজিল। কিন্তু মেক্সিকোর কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেওয়ার ব্যবস্থাটাও করেছেন সেই নেইমার। গেল তিন ম্যাচে যাকে অপেক্ষাকৃত বিবর্ণ লেগেছে। এবার ফিরমিনহোকে দিয়ে ৮৮ মিনিটে গোল করালেন।

চ্যাম্পিয়নদের মরণফাঁদ হয়ে ওঠা রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেরা দল হিসেবেই দেখা দিল যেন। জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিদায় হয়ে গেছে। কিন্তু এটা ব্রাজিল দল! নেইমার-কুতিনহো ছাড়াও তারা ভরা দুর্দান্ত নৈপুণ্যের দল। একসাথেই যেন এদিন জ্বলে উঠলেন তারা। রাত ১২টায় বেলজিয়াম-জাপান ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াই ব্রাজিলের।

প্রথমার্ধের শুরু থেকে দুর্ধর্ষ গতিতে আক্রমণ করে যাওয়া মেক্সিকানদের কিছুটা ক্লান্ত করে তবেই চূড়ান্ত আক্রমণে গিয়েছিলেন নেইমাররা। কয়েকটি সুযোগ তাতে তৈরি হলেও গোল হয়নি। কিন্তু এবারের আসরে অনেকটা অনুজ্জ্বল উইলিয়ান পেনাল্টি বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত একটু সুযোগ তৈরি করলেন। গোলমুখে অপেক্ষমান নেইমারকে নিচু করে ঠেলে দিলেন দ্রুত। চোখের পলকে গোলকিপার ওচোয়াকে সুযোগ না দিয়ে সেই বল জালে জড়িয়ে ১-০ গোলের লিড এনে দিলেন নেইমার। তাতে নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের একটি অংশ হলেন, ঢুকলেন রেকর্ডের পাতায়। এটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২২৭তম গোল। এতদিন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক জার্মানিকে নেইমারের গোলেই ছাড়িয়ে গেল ব্রাজিল।

মেক্সিকান গোলরক্ষক ওচোয়া বেশ সেভ করছিলেন। গোলশূন্য প্রথমার্ধ থেকে ফিরেই প্রবল আক্রমণ শুরু ব্রাজিলের। নেইমার কর্নার নিয়েছিলেন। ম্যাচ উইনার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কুতিনহো ছিলেন লক্ষ্য। কুতিনহোর শটের লক্ষ্যও ছিল ঠিক। কিন্তু গুইলেরমো ওচোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই বল সেভ করে দিলেন। কি হতাশা কুতিনহোর!

এরপর আরো আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চলল। মেক্সিকানরাও গোলের সুযোগ তৈরি করে কাজে লাগাতে পারলো না। আরো গোল পাওয়ার কাছাকাছি গেল ব্রাজিল। কিন্তু তাদের দ্বিতীয় গোলটি এল কুতুনিহোর জায়গায় ৮৬ মিনিটে খেলতে নামা ফিরমিনহোর কাছ থেকে। নেইমার নিজেই চেষ্টা করেছিলেন গোলের। কিন্তু এই ম্যাচে অসাধারণ কিছু সেভ করা মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়া কোনো মতে ঠেকালেও ফিরমিনহো ফিরতি বলটাকে জাল চিনিয়ে দিলেন। এরপর কি আর ফেরার উপায় থাকে মেক্সিকোর! টানা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকে তাদের বিদায়!

ম্যাচটা শুরুই হয়েছে দারুণ উত্তেজনায়। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ। তবে প্রথম সুযোগটা মেক্সিকো তৈরি করে। আন্দ্রেস গুয়ারদাদোর তোলা ক্রস পাঞ্চ করে লোজানোর নাগালের বাইরে পাঠান ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন। প্রায় সাথে সাথেই জবাব দেন ব্রাজিলিয়ানরা। নেইমারের নেওয়া শট মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়াকে কাঁপিয়ে দেয়।

গতিময় খেলা শুরু থেকেই। রোমাঞ্চ ছড়ানো ইঙ্গিত। মেক্সিকো যেন শুরু থেকেই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণের সর্বোচ্চটা তখনো শুরু করেননি নেইমার-কুতিনহোরা। ব্রাজিলের এই আসরে খেলা দলগুলোর মধ্যে এই মেক্সিকানদেরই সবচেয়ে প্রতিভাবান বলতে হবে। প্রথম ২০ মিনিটে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষকেই ভালো দল মনে হয়েছে। ২২ মিনেটে তো হেক্টর হেরেরা প্রথম সুযোগে শট না নিয়ে গোলের একটি সম্ভাবনা নষ্ট করলেন।

কিন্তু এটা ব্রাজিল দল। ২৬ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আক্রমণ করে নেইমার আতঙ্ক ছড়ালেন মেক্সিকোর বক্সে। এডসন আলভারেজকে আগেই ছিটকে ফেলেছিলেন। কিন্তু গোল করার জন্য ওটা ছিল কঠিন একটি অ্যাঙ্গেল। তবু নেইমার চেষ্টা করলেন। পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়ে যে শট নিলেন তা গোলকিপার ধরে ফেললেন। এরপরই নেইমারের ফ্রি-কিক থেকে উড়ে যাওয়া বল জেসুসের ছোঁয়া পেলেও ওচোয়া বাঁচিয়েছেন দলকে।

প্রথমার্ধের ২০/২৫ মিনিটের খেলা দেখে মনে হয়েছে মেক্সিকানরা যে প্রবল গতিতে শুরু করেছিলেন সেটারই জবাব ভিন্ন কৌশলে দিলেন ব্রাজিলিয়ানরা। সামারায় গরম খুব। আর্দ্রতাও বেশি। ব্রাজিল অপেক্ষাকৃত কম গতিতে আক্রমণে গিয়ে বল দখলে রাখছিল বেশি। মেক্সিকানদের দ্রুত ক্লান্ত করে দিয়ে তারপর যা করার কৌশল। এবং দেখা গেল প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিট ব্রাজিলই আক্রমণের পর আক্রমণ করে গেল। চাপে পড়ে গেল মেক্সিকো। গ্যাব্রিয়েল জেসুস বক্সে ঢুকে শট নিলেন। ওচোয়া দুর্দান্তভাবে ঠেকালেন। কিন্তু রাখতে পারলেন না। ব্রাজিলিয়ানের পরের দুর্বল শটটি গালার্দো ঠেকালেন। এরপর কুতিনহো দুর থেকে শট নিলেও তা ডিফেন্সে গিয়ে ফিরল।

ওই প্রথমার্ধে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে যা করার করে ফেলল স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়ে। প্রায় সব আক্রমণেই নেতৃত্ব দিলেন নেইমার। তার ক্লাব পিএসজির এমবাপে, কাভানির পর নিজেতে ফেরা চেনা নেইমার সামনে আর কি ম্যাজিক দেখাবেন কে জানে! এক কথায় ম্যাচটাকে টানতে গেলে বলতেই হয়, নেইমারের কাছেই হেরে গেল মেক্সিকো, নিল হৃদয়বিদারক বিদায়।

  

Post Your Comment