আজ বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ রাজনীতি রাজনীতিবিদরা সৎ হলে দেশের উন্নতি হয়: প্রধানমন্ত্রী

৯২  বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিবিদরা সৎ হলে দেশের উন্নতি হয়: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | ১১:০০ পূর্বাহ্ন, ৮ জানুয়ারী, ২০১৮

  

chahida-news-1515387603.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতিবিদরা সৎ, নিষ্ঠাবান, একাগ্র থাকলে দেশের উন্নতি হয়।

রোববার সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রী ছায়েদুল হক ও গাইবান্ধা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, তারা দু'জনই ব্যক্তিজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার জন্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম এবং এ বছরের প্রথম অধিবেশন গতকাল বিকেল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয়। এর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর পর এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হককে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ছায়েদুল হকের মতো একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মন্ত্রী পেয়েছিলাম। তিনি দক্ষতা ও সততার সঙ্গে মন্ত্রণালয় চালিয়ে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে তার ভূমিকা রয়েছে।'

সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, গোলাম মোস্তফা তৃণমূলের নেতা ছিলেন। তিনি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থেকে সব সময় আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করতেন। তিনি এমন একটি জায়গা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যে জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলত।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ছাড়াও অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, এ বি তাজুল ইসলাম, মীর শওকত আলী বাদশা, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সবাইকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। এর পর শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়।

মুলতবি শেষে বৈঠক শুরু হলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। এর পর বৈঠক আবারও মুলতবি করা হয়। বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদের বছরের শুরুতে সংসদে দেওয়া এটাই শেষ ভাষণ।

অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী চলতি অধিবেশনের সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন দেন। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন সংসদ পরিচালনা করবেন। এবারের অধিবেশনের জন্য মনোনীতরা হলেন- ফারুক খান, পঞ্চানন বিশ্বাস, বি এম মোজাম্মেল হক, ফখরুল ইমাম ও সৈয়দা সায়েরা মহসীন।

এরপর স্পিকার মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ফজলুর রহমান ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন সরকার, কাজী নুরুজ্জামান, গাজী আতাউর রহমান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

একই সঙ্গে ভাষাসংগ্রামী মহম্মদ তকীয়ূল্লাহ জয়নাল আবেদীন, দলিল উদ্দিন, বিজ্ঞানী আবদুল লতিফ, সঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী, নৃত্যশিল্পী রাহিজা খানম ঝুনু, ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে ওই দিনের মতো বৈঠক মুলতবি করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছুক্ষণের জন্য মুলতবির পরে আবারও শুরু হয় বৈঠক।

  

Post Your Comment