আজ শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ সংবাদ যেভাবে উদ্ধার হলেন সবাই (ভিডিও)

৬০  বার পড়া হয়েছে

যেভাবে উদ্ধার হলেন সবাই (ভিডিও)

১:৩৪ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই, ২০১৮

  

chahida-news-1531294444.jpg

শোক-প্রার্থনা, আশা-আনন্দের মধ্য দিয়ে অবশেষে তিন দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষ হল। শেষ পর্যন্ত জয় হল জীবনেরই। অন্ধকার গুহার গোলকধাঁধা থেকে বেঁচে ফিরল থাই কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য ও তাদের কোচ।

মঙ্গলবার শেষ ধাপের অভিযানে কোচসহ ৫ কিশোরকেও জীবনের আলো দেখালেন উদ্ধারকারীরা। তিন দফা অভিযানে গুহায় দীর্ঘ বন্দিদশা কাটানো সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অবসান হল দীর্ঘ ১৮ দিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার।

বিশ্বজুড়ে বইছে ‘শাবাশ থাইল্যান্ড’, ‘শাবাশ থাইল্যান্ড’ রব। চিয়াং রাই প্রদেশের থাম লুয়াং গুহার পাশে উৎসবের উল্লাসে মেতে উঠেছেন থাইবাসীরা। এদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে সবার সুস্থ থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন উদ্ধার অভিযান দলের প্রধান নারংসাক ওসোত্তানাকর্ন।

সকালে অভিযান শুরুর পরপরই থাম লুয়াং গুহা এলাকা পরিদর্শন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওঁচা। সেখানে তাকে মানচিত্রের মাধ্যমে অভিযানের কৌশল ব্রিফিং করা হয়। খবর বিবিসি, এএফপি ও সিএনএনের।

রোববার প্রথম দিনের অভিযান শেষে চার কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সোমবার দ্বিতীয় দিনের অভিযানে উদ্ধার হয় আরও ৪ কিশোর। গুহায় আরও একদিনের অপেক্ষায় ছিল কোচসহ ৫ জন।

উদ্ধার মিশনের প্রধান জানালেন, আজই (মঙ্গলবার) সবাইকে বের করে আনতে হবে। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের অভিযান তাই একটু আগেভাগেই শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। সকাল ১০টায় গুহায় প্রবেশ করেন ডুবুরিরা। অভিযানে অংশ নেয়া ১৮ ডুবুরির সঙ্গে যোগ দেন অতিরিক্ত আরও একজন। স্থানীয় সময় ৪টা ৬ মিনিটে নবম কিশোরকে গুহা থেকে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। একে একে সবাইকে বের করা হয়। সবশেষে বেরিয়ে আসেন কিশোর দলের ‘মহানায়ক’ কোচ ইকাপোল ছানতাওয়াং।

উদ্ধারের পরই অ্যাম্বুলেন্সে তাদের চিয়াং রাই প্রদেশের প্রাচ্যানুকরোহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আগের দু’দিনে উদ্ধার হওয়া আট কিশোর।

বিবিসি লিখেছে, ‘টিমের সব সদস্য আবার একত্র হয়েছে। তবে একটু অন্যভাবে। সবাই হাসপাতালের বেডে।’ এদিন তাদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন নেভি সিলের ৩ সদস্য ও একজন চিকিৎসক। ২ জুলাই থেকে কিশোরদের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তারা তাদের সঙ্গে গুহায়ই ছিলেন। অভিযান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নারংসাক জানান, ‘কিশোর ফুটবলাররা সুস্থ আছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।’

মঙ্গলবার সকালে গুহা এলাকা পরিদর্শন করেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওঁচা। সেখানে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উদ্ধারের কৌশল ব্রিফিং নেন তিনি। এছাড়া কিশোর ফুটবলারদের বাবা-মার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। তাদের সাহস জোগান।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রায়ুত চান-ওঁচা বলেন, ‘থাম লুয়াং গুহা কয়েকদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ গুহাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এটি আবার খুলে দেয়া হবে।’

চিয়াং রাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রথম উদ্ধার চার কিশোরকে কাচের দেয়ালের বাইরে থেকে দেখেছেন তাদের বাবা-মা। চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণের ভয় থাকায় তাদের কাছে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। এদিকে হাসপাতালের সামনে ছিল থাই নাগরিকদের উপচেপড়া ভিড়। সবাই ‘ভি’ (বিজয় নিদের্শক) চিহ্ন দেখিয়ে অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের ফিরে আসাকে ‘অলৌকিক’ বলে জানিয়েছেন অনেকে। নিক বিয়াক নামের একজন লিখেছেন, ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে সুখের খবর। এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। অবিশ্বাস্য...।’

মিয়ানমার সীমান্তের কাছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ থাম লুয়াং থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহা। ২৩ জুন চিয়াং রাই প্রদেশের ওই গুহায় ঢোকার পর নিখোঁজ হয় ওই ১৩ জন। ১২ কিশোরের একজনের জন্মদিন উদ্?যাপন করতে ও বেড়াতে তারা সেখানে গিয়েছিল।

মু পা (ওয়াইল্ড বোয়ার্স) নামের ফুটবল দলটি বৃষ্টির পানি বাড়তে থাকায় গুহার ৪ কিলোমিটার দূরে চলে যায়। নিখোঁজের ৯ দিন পর ২ জুলাই ব্রিটিশ ডুবুরি রিচার্ড স্ট্যানটন ও জন ভলানথেন তাদের সন্ধান পান। তাদের অবস্থান জানার পর গুহার ভেতরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করার পাশাপাশি পাঠানো হয় খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। শুক্রবার কিশোরদের অক্সিজেন সরবরাহ করে ফেরার পথে প্রাণ হারান থাই নৌবাহিনীর সাবেক ডুবুরি সামান কুনান। নেভি সিলের অবসরপ্রাপ্ত এই সদস্য মারা যান অক্সিজেন-স্বল্পতায়।

শনিবার অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক গুহায় ঢুকে কোচ ও কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে উদ্ধার অভিযান শুরু করার সবুজসংকেত দেন। বৃষ্টির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে রোববার সকাল থেকে মূল অভিযান শুরু হয়। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়ায় ৯০ জনের একটি ডুবুরি দল কাজ করছে। তাদের মধ্যে ৪০ থাইল্যান্ডের ও ৫০ জন বিদেশি। গুহায় প্রবেশ করে মূল অভিযানে অংশ নেন ১৩ বিদেশি ও ৫ থাই ডুবুরি। সব মিলিয়ে উদ্ধারকারী দলে যোগ দেন দেশি-বিদেশি ১ হাজার জন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ।

গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে হেঁটে, কাদা মাড়িয়ে, কখনও চড়াইয়ে উঠে, আবার কখনও পানির নিচ দিয়ে সাঁতরে ওই কিশোরদের বের করে আনা হয়। উদ্ধার কাজের জন্য বাইরে থেকে ওই ফুটবল দলের অবস্থানস্থল পর্যন্ত দড়ি বাঁধা হয়। উদ্ধারের সময় প্রত্যেক কিশোরকে অক্সিজেন মাস্ক পরানো হয়, দড়ি দিয়ে বাঁধা হয় সামনে থাকা ডুবুরির সঙ্গে। তিনি গুহায় বাঁধা দড়ি ও কিশোরের অক্সিজেনের বোতল নিয়ে অগ্রসর হন। কোনো সমস্যা হলে সহায়তার জন্য পেছনে ছিলেন আরেক ডুবুরি।

উদ্ধার অভিযানের শুরু থেকে গুহার বাইরে অবস্থান নেয় ১৩টি চিকিৎসক দল। ১৩ জনের প্রত্যেকের জন্য একটি করে দল। প্রতি চিকিৎসক দলে ছিল একটি করে হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্স। গুহা থেকে বের করে আনার পরপরই ওই ১৩ জনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তারপর তাদের হেলিকপ্টারে করে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে চিয়াং রাই হাসপাতালে নেয়া হয়।

  

Post Your Comment