আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ সংবাদ ঈদযাত্রায় মানুষের ঢল

৪৬  বার পড়া হয়েছে

ঈদযাত্রায় মানুষের ঢল

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুন, ২০১৮

  

chahida-news-1528868783.jpg

আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে রাজধানী ছাড়া মানুষের ঢল রাজধানীর বাস-নৌ-রেল স্টেশনে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গ্রামমুখী মানুষের ঢল। বৃষ্টিতে ভিজেও পথে নেমেছেন তারা। বুধবর শবেকদরের ছুটি। বৃহস্পতিবার ঈদপূর্ব শেষ কর্মদিবস। এই দিবসের আগাম ছুটি নিয়ে অনেকেই মঙ্গলবার বাড়ির পথে ছুটতে দেখা গেছে মানুষজনকে।

আবহাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সদরঘাট থেকে মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি রুটে লঞ্চ ছাড়ে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরঘাটে বাড়তে থাকে যাত্রীর ভিড়। দুপুর গড়ানোর পর ঘাট, প্ল্যাটফর্ম, লঞ্চের ডেক আর করিডর- সব মিলে যেন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার মূলকেন্দ্র এই সদরঘাট নদীবন্দর। এখান থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, হাটুরিয়া, ভান্ডারিয়াসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন শতাধিক লঞ্চ ছেড়ে যায়। সারাদেশে ২০২টি নৌরুটে ৮০০ লঞ্চ চলে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ৪২টি রুটে লঞ্চ ছাড়ে; প্রায় ৯ হাজার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের লোকজন, ব্যাচেলর চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া ছাত্রছাত্রী, বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার যাত্রী হাতে-কাঁধে ব্যাগ চাপিয়ে ছুটছেন নাড়ির টানে।

বরিশালের ভাসানচরে যাবেন এমাদ কাজী। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি সদরঘাটে এসেছেন। বৃষ্টিতে ভিজে গেছে পরিবারের সবাই। তবু ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছে সবাই ঘাটের দিকে। তিনি সপরিবারে উঠলেন রাজহংস-৮ নামের লঞ্চে। এই প্রতিবেদককে বললেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাব, বৃষ্টি কোনো দুর্ভোগই না। তার চেয়ে বড় কথা লঞ্চে চড়ার সুবিধা হচ্ছে- কাপড় পরিবর্তন, থাকাখাওয়া সবই করা যায়।

সদরঘাটে এমভি আওলাদ-৪ লঞ্চে উঠবেন মাহফুজ। যাবেন বরিশালে। যাত্রীতে ঠাসা লঞ্চটি। একজন আরেকজনকে ধরে ঠেলাঠেলি করেই ভেতরে ঢুকছেন। মাহফুজ বললেন, ঈদে বাড়তি মানুষ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ঝুঁকি না নেওয়া উত্তম।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টি হলেই লঞ্চ ছাড়া যাবে না- এমনটি নয়। আবহাওয়ার সংকেতের ওপর তা নির্ভর করে। ওভারলোড করে লঞ্চ যাত্রী তুলতে পারবে না। তারচেয়ে বড় কথা, জাহাজের সার্ভে সনদ, মাস্টারের সার্টিফিকেট পরখ করে লঞ্চ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এমভি সুন্দরবনে চেপে পটুয়াখালী যাবেন ফরিদ। সন্ধ্যায় লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি সদরঘাট পৌঁছেছেন বিকালে। ঘাটে দাঁড়িয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। ফরিদ নামের ওই যাত্রী বলছিলেন, প্রতিবারই ঈদে বাড়ি ফেরার সময় সদরঘাটে দুর্ভোগ থাকে। বিশেষ করে কুলিদের যন্ত্রণা অসহনীয়। ঘাট ইজারামুক্ত বলা হচ্ছে, কিন্তু হয়রানিমুক্ত তো হয়নি। পরিবারসহ বাড়ি আসা-যাওয়ায় একই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় প্রতিবার। তবু নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে হয়। মাথা পেতে নিতে হয় এসব ঝক্কি-ঝামেলা।

কুলিদের এই হয়রানি নিয়ে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে নৈরাজ্য ও অস্বাভাবিক যাত্রী হয়রানি শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটির কর্মচারীরা সিংহভাগ যাত্রীর টিকিটবিহীন টার্মিনাল প্রবেশ ফি আদায় করছে। ঘাটের কুলি এবং গুটিকয়েক অসাধু লঞ্চমালিকের দৌরাত্ম্য বন্ধে অসহায় যাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে কল্যাণ সমিতি।

  

Post Your Comment