আজ বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ সংবাদ এবারের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ

৫৩  বার পড়া হয়েছে

এবারের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ

সাদ বিরোধী বিক্ষোভ উত্তেজনা, দুর্ভোগ

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, ১১ জানুয়ারী, ২০১৮

  

chahida-news-1515647134.jpg

ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী এবারের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনারমো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

এর আগে বুধবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্দলভীর অংশ নেয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তিনি তাবলীগ জামাতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার। গত কয়েক বছর ধরে তিনি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। এবারের ইজতেমায় তার অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে গত জোড় ইজতেমা থেকে তাবলীগ জামাতের মুরব্বি ও ইজতেমা আয়োজকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তাবলীগ জামাতের একাংশের মুরব্বিরা বলছেন, মাওলানা সাদ বেশকিছু বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন যা কোরআন-সুন্নাহ্‌ বিরোধী। তাই তাকে ইজতেমায় তারা অংশ নিতে দেবেন না।

অন্য পক্ষ মাওলানা সাদকে দিয়েই ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পরিচালনার তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। শুক্রবার থেকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে। ইজতেমাকে সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে ইজতেমা ময়দান।

মাওলানা সাদ কান্দলভীর ঢাকা আসাকে ঘিরে বুধবার দিনভর হযরত শাহ্‌জালাল রহ. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তাবলীগ জামাতের একাংশের লোকজন। তাদের বেশির ভাগই কওমি মাদ্‌রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তাদের এ কর্মসূচির কারণে ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়কে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুই পাশের সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় দুই পাশে আটকা পড়ে হাজার হাজার যানবাহন। এতে আটকেপড়া যাত্রীরা দিনভর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান। বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বের হতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহান বিমানযাত্রীরা। দীর্ঘ যানজটে আটকে মালপত্র নিয়ে অনেককে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে দেখা যায়। সকাল থেকে চলা বিক্ষোভ ও অবরোধের মধ্যেই দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্দলভী ঢাকায় পৌঁছান। তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে পৌঁছে দেয়া হয়। তিনি কাকরাইলে পৌঁছার খবর পেয়ে অবরোধকারীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এবং কাকরাইল মসজিদের সামনে লাগাতার অবস্থানের ঘোষণা দেন। অবস্থান নেয়া তাবলীগ কর্মীরা দুইদিকে ভাগ হয়ে অবস্থানস্থল ছেড়ে যান। সন্ধ্যার পর কিছু কর্মী কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। মাওলানা সাদ এর কাকরাইল মসজিদে অবস্থানের আগ থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বুধবার রাতেও কাকরাইল মসজিদের সামনে ও আশপাশের সড়কে কড়া পুলিশ প্রহরা ছিল। বিকাল থেকে মসজিদে সাধারণ কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ফটকে দায়িত্বে থাকা তাবলীগের কর্মীরা শনাক্ত করার পরই কেবল তাবলীগ কর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এদিকে ইজতেমায় মাওলানা মোহাম্মদ সাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ কওমি মাদ্‌রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের নেতারা। বুধবার বিকাল থেকেই এ অবস্থানের ঘোষণা দেন বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস এবং সহকারী মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।

তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস শাহ্‌ রহ: এর দৌহিত্র মাওলানা সা’দ তাবলীগের মারকাজ নিজামুদ্দিনের জিম্মাদার হিসেবে রয়েছেন। তার কিছু বক্তব্য ও একক নেতৃত্বের বিষয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে মুরব্বিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। মতবিরোধ থেকে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাওলানা সাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, আর নিজামুদ্দিন ছেড়ে চলে যান মাওলানা ইবরাহিম দেওলাসহ বেশ কয়েকজন মুরব্বি। এই বিভক্তির রেশ ছড়িয়ে পড়ে অন্য কারকাজগুলোতেও। বাংলাদেশের কওমি মাদ্‌রাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দকে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। কওমি অনুসারী তাবলীগ কর্মীরা তাই মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বেশ কিছুদিন ধরে কাকরাইল মসজিদের মুরব্বিদের মধ্যেও বিরোধ চলে আসছে। কয়েক দফা তা প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সর্বশেষ এই বিরোধকে কেন্দ্র করে জোড় ইজতেমার নির্ধারিত একদিন আগেই মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ করে দেয়া হয়। জোড়ে তাবলীগের মুরব্বি ও ইজতেমা আয়োজকরা মাওলানা সা’দের অংশ নেয়াকে নিয়ে বিতর্কে জড়ান।

তাবলীগ জামাতের কাকরাইল শূরার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানিয়েছেন, বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণের সমালোচিত মাওলানা সাদের আগমন ঠেকাতে বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দরের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ করছেন তাবলীগ জামাতের একটি অংশ এবং আলেম-ওলামাগণ। অন্যদিকে মাওলানা সাদের সমর্থকরা জানান, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ অংশ নিতে না পারলে এদেশে আর বিশ্ব ইজতেমা হবে না। গত রোববার টঙ্গীতে ইজতেমার প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভায় তাবলীগের একজন মুরব্বীও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাওলানা সা’দ যাতে ইজতমোয় অংশ নিতে না পারেন সেজন্যে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি না আসতে পারলে এদেশে বিশ্ব ইজতেমা আর হবে না।

  

Post Your Comment