আজ শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ জাতীয় বিএনপির স্পষ্ট বার্তায় কী থাকছে

৩৭  বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্পষ্ট বার্তায় কী থাকছে

১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  

chahida-news-1538283833.jpg
বিএনপির স্পষ্ট বার্তায় কী থাকছে ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনসভায় আজ রোববার স্পষ্ট বার্তা দেবে বিএনপি। বিশেষ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাত দফা দাবি জানানো হবে।

একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাও জাতিকে জানাবে দলটি।

দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা শুরু হবে।

জনসভায় যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তাদের সঙ্গে মিল রেখে বিএনপির অবস্থানও জনসভায় তুলে ধরা হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা শুরু হবে। বিএনপি এককভাবে এ জনসভার আয়োজন করছে। জোটের শরিক ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপি কি বার্তা দিচ্ছে সেদিকে এখন নজর দেশি-বিদেশি সব মহলের। সব মহলকে দলের চিন্তা ও কর্মপন্থার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবে বিএনপি। সেখানে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র ক্ষমতার ভারসাম্য, সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেয়া, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়াসহ ১২টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরবে দলটি।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সংখ্যা ১৩ হতে পারে। একই সঙ্গে জনসভায় সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ৭ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে বিএনপি।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের যে দাবি আছে তা জনসভায় উপস্থাপন করব। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট যেমন গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট ও বাম জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আমাদের অবস্থানও জনসভায় তুলে ধরব।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো শর্ত নেই, তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। আইনগতভাবে খালেদা জিয়া জামিন ও মুক্তি পাওয়ার সব অধিকার রাখেন। সুতরাং খালেদা জিয়ার মুক্তি তো দিতেই হবে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে নির্বাচন সম্ভব নয়- এ কথাটা সরকার বুঝতে পারছে না। তবে আশা করি তারা খুব শিগগির বুঝতে পারবে। এখন আবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জেলে নেয়ার প্ল্যান করছে।

এখন আমাদের দলও রক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে কর্মীসহ নেতৃত্বকেও রক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে সব রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক কারণেই তাদের রক্ষা করার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটিই দলের প্রথম জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জনসভা ঘিরে ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মধ্যে নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং এসব জেলার উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের রাজধানীতে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও কেন্দ্রীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছেন।

১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করে বিএনপি। এর পর এটিই বড় কর্মসূচি দলটির। এর আগে ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল বিএনপি। ওই সভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন।

  

Post Your Comment