আজ শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ |
Search

প্রচ্ছদ জাতীয় অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যু

৪৬  বার পড়া হয়েছে

অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক | ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, ৭ জুলাই, ২০১৮

  

chahida-news-1530903409.jpg

সাংবাদিক রুবেল খানের শিশুকন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যু হয়েছে অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায়। একই সঙ্গে রয়েছে ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ। এমন তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সম্পাদক সবুর শুভর দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১১টার সময় এই তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের হাতে হস্তান্তর করা।

শুক্রবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নাজিমুদ্দিন শ্যামল বলেন, ছয় পর্যবেক্ষণ ও তিন সুপারিশসহ দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে নগরীর মেহেদিবাগের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিক কন্যা রাইফার চিকিৎসায় চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎিসা, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার প্রমাণ উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি ওই হাসপাতালের দুজনসহ তিন চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে শিশু রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন চিকিৎসকসহ নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি বিএমএ সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি এবং চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘শিশু রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। ওই সময় থাকা সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই ছিল না।’

শিশু রাইফার ম্যাক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের ভোগান্তি চরমে ছিল।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর বাবা-মা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মাণ হয়।

তদন্তে স্পষ্ট হয়, হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি প্রকট। চিকিৎসক নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয়হীনতা ও চিকিৎসাকালীন মনিটরিংয়ের অভাব দেখা যায়। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল রয়েছে। বিশেষত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির সংকট প্রবল।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ম্যাক্স হাসপাতালের সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অতিদ্রুত সংশোধন করা অপরিহার্য।’

কর্তব্যরত নার্সরা সরকারি নিয়ম অননুায়ী ডিপ্লোমাধারী থাকার নিয়ম থাকলেও ম্যাক্স হাসপাতালে তা নেই। ডিপ্লোমা নার্স দ্বারা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে এতে বলা হয়।

সুপারিশে আরও বলা হয়, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীর অভিভাবককে যথাসময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসর ব্যাপারে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবগত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সিইউজের সাবেক সভাপতি এজাজ ইউসুফী, মোস্তাক আহমদ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, বিএফইউজের যুগ্ম-মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, সিনিয়র সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্ত, নজরুল ইসলাম, ম. শামসুল ইসলাম ও মহসিন কাজী প্রমুখ।

  

Post Your Comment