আজ সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ |
Search

প্রচ্ছদ হলিউড হলিউডে আরও যৌন কেলেঙ্কারি

৬২  বার পড়া হয়েছে

হলিউডে আরও যৌন কেলেঙ্কারি

অভিযোগ স্বীকার করলেন অভিনেতা

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১২:১৮ অপরাহ্ন, ১২ নভেম্বর, ২০১৭

  

chahida-news-1510467504.jpg

প্রযোজক হারভে উইন্সটেনের যৌন কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই বেরিয়ে এলো আরেক তারকার যৌন কেলেঙ্কারির রগরগে কাহিনী। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু নারী অভিযোগ উত্থাপন করার পর তিনি অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন। এবারের তারকা হলেন কমেডিয়ান বা কৌতুক অভিনেতা লুইস সি কে। যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনী স্বীকার করে তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এসব অভিযোগ সত্য। এর মধ্য দিয়ে আমি আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সন্তান ও তাদের মাকে বেদনাহত করেছি’। এ সপ্তাহে লুইস সি কে’র যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

তাতে বলা হয়, অনেক নারীকে সামনে দাঁড় করিয়ে তাদের সামনে ‘মাস্টারবেট’ করেছেন লুইস সি কে। এমন সব অভিযোগে হলিউড যেন থর থর করে কাঁপছে। এক হারভে উইন্সটেনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৫০ জন অভিনেত্রী, যুবতীর যৌন কেলেঙ্কারি যেন এ কেলেঙ্কারির অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়ে দিয়েছে। শুধু হলিউডই নয়, এর ছোঁয়া লেগেছে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বৃটেনে তো এরই মধ্যে মন্ত্রী সহ ৩৬ জন এমপির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এতে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আরো একজন রিয়েলিটি শো তারকার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। হলিউডের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তাদের অনেকেই তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে হারভে উইন্সটেন বলেছেন, তিনি শারীরিক সম্পর্ক ঠিকই স্থাপন করেছিলেন। তবে তা হয়েছিল উভয়ের সম্মতিতে। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন উভয়ের সম্মতিতে তাদের যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ ছিল না। নিউ ইয়র্ক টাইমস লুইস সি কে’র বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারীর অভিযোগ প্রকাশ করার কয়েকদিন পরে তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে স্বীকার করেছেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য। সুবোধ বালকের মতো তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, কমেডি অভিনেতা হিসেবে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও সম্মানিত একজন ব্যক্তি হওয়ার কারণে হয়তো যৌন নির্যাতিতরা এতদিন মুখ বন্ধ করে ছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারী বা যুবতীরা আমার ভীষণ ভক্ত ছিলেন, এটাই হয়তো আমার শক্তি ছিল।

আমি এই শক্তিকে ব্যবহার করেছি দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো। আমাকে সম্মান করা, শ্রদ্ধা করার সুযোগকে আমি কাজে লাগিয়েছি। আর তাই তারা তাদের কাহিনী বাইরের কারো কাছে প্রকাশ করেন নি। কারণ, তারা হয়তো ভাবতেন মানুষ তাদেরকে বিশ্বাস করবে না। আমার মতো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আমলে নেবে না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, লুইস সি কে’র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এবং তা তিনি স্বীকার করে নেয়ায় বড় প্রভাব পড়েছে তার ছবিতে। তার নতুন ছবি ‘আই লাভ ইউ, ড্যাডি’ ছবির নিউ ইয়র্কে প্রিমিয়ার ও অবমুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এইচবিও। তাদের আসন্ন একটি ইভেন্ট থেকে বাদ দিয়েছে লুইস সি কে’কে। ওদিকে ‘লুই’ শো প্রদশ্যন করে এফএক্স। তারাও বলেছে, এ ঘটনার পর লুইস সি কে’র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কি হবে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এমন অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। দুঃখ প্রকাশ করেছেন সেইসব সহকর্মীর কাছে যাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন তা এখানে তুলে ধরা হলো:

অ্যাবি, রেবেকা, ডানা, জুলি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জন নারী নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে মুখ খুলেছেন। আমি তাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলতে চাই।

আমি বলতে চাই, তারা যা বলেছেন তা সত্য। ওই সময়ে আমি মনে করতাম যা করছি তা ছিল। কারণ প্রথমে জিজ্ঞাসা না করে আমি কোনো নারীকে আমি কখনো আমার বিশেষ অঙ্গ দেখাই নি। এ কথাও সত্য। কিন্তু অনেক পরে হলেও আমি জীবনের শেষের দিকে এসে যা জানতে পারলাম তা হলো, যখন অন্যের ওপর আমার ক্ষমতা বা শক্তি আছে, তখন তাদেরকে আমার বিশেষ অঙ্গ দেখতে বলতে পারা কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। এটা তাদের জন্য এক বিপজ্জনক অবস্থা। এসব নারীর ওপর আমার যে ক্ষমতা ছিল তা হলো তারা আমাকে ভীষণ ভক্তি করেন। আর কা-জ্ঞানহীনের মতো আমি সেই শক্তি প্রয়োগ করেছি। এমন আচরণের জন্য আমি অনুতপ্ত। এ থেকে শিক্ষা নেয়ার চেষ্টা করছি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছি। আমি বুঝতেক পারছি আমার এমন আচরণের প্রভাব সম্পর্কে। আমি এসব নারীকে কি খারাপ অনুভূমিতে ভেলে দিয়েছি তা আমি অনুধাবন করতে পারিছ। একই কারণে অন্য অনেক পুরুষও তাদের অবস্থানে বিপদজনক াবস্থানে আছে। আমার সম্প্রদায় ও তাদের মাঝে আমার প্রতি যে ভীষণ শ্রদ্ধাবোধ ছিল আমি তার সুবিধা নিয়েছি। এ কারণে, তারা তাদের কাহিনীকে পঙ্গু করে রেখেছিলেন। কারণ, যারা আমাকে জানেন সেসব মানুষ তাদের ওই কাহিনীকে বিশ্বাস করতেন না। তারা এটা বুঝে গিয়েছিলেন। 

  

Post Your Comment