আজ সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ |
Search

প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য অস্থিসন্ধি ও হাঁটুর ব্যথা

২৯১  বার পড়া হয়েছে

অস্থিসন্ধি ও হাঁটুর ব্যথা

ডা. মনিরুজ্জামান খান | ৫:৩৬ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

  

chahida-news-1508412967.jpg

মানুষের মুখে প্রচলিত একটা কথা আছে, জীবনে উপরে ওঠার সিঁড়িগুলো আরোহণ করতে হলে হাঁটুতে জোর থাকতে হয়। কথাটি রূপকভাবে বলে থাকলেও বাস্তব জীবনে মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্ট বা সন্ধি হচ্ছে হাঁটু। মানবদেহে এটিই সবচেয়ে বড় অস্থিসন্ধি। হাঁটু সাইনোভিয়াল সন্ধির হিঞ্জ প্রকারভেদ, যা একই সঙ্গে পিভোট ও হিঞ্জ সন্ধি। অস্থিসন্ধি হাঁটু তিনটি অংশে গঠিত। যেমন- ফিমার-প্যাটেলা সংযোগ, ফিমারের সামনের প্যাটেলার খাঁজ এবং মধ্যবর্তী ও পার্শ্ববর্তী ফিমার-টিবিয়া সংযোগ; যা একত্রে হাঁটু গঠন করে উরুর সঙ্গে পায়ের সংযোগ করে। হাঁটুর সন্ধি স্থলে থাকে নরম কার্টিলেজ যা শক অ্যাবজরবার হিসেবে কাজ কররে। এই সন্ধি সাইনোভিয়াল ফুইডের মধ্যে থাকে, যা সাইনোভিয়াল মেমব্রেন দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। জন্মের সময় শিশুদের হাঁটু-টুপি (প্যাটেলা) থাকে না। কিন্তু তরুণাস্থি থাকে। শিশুর বয়স ৩-৫ বছর হওয়ার সময় এটি রূপান্তরকরণের মাধ্যমে অস্থিতে পরিণত হয়। যেহেতু প্যাটেলা মানবদেহের সবচেয়ে বড় সিসাময়েড অস্থি সে ক্ষেত্রে রূপান্তরকরণ প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে।হাঁটু সংকোচন এবং প্রসারণের পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক ঘূর্ণন করে। উঠতে-বসতে, হাঁটাচলায় হাঁটুর নড়াচড়া বা মুভমেন্ট হয়। যা শরীরের ওজন আনুভূমিকভাবে (হাঁটা ও দৌড়ানো) এবং লম্বালম্বিভাবে বহন করে।হাঁটুর গঠন বিবর্তনের ধারায় পরিবর্তিত না হলেও প্রায়ই ইনজুরির শিকার হয়ে থাকে। যে কোনো বয়সে বিভিন্ন কারণে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। হাঁটু ব্যথার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে :১. আর্থ্রাইটিস : অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট/গাউটি আর্থ্রাইটিস।২. আঘাতজনিত বা হাঁটুতে চোট লাগা।৩. জীবাণুর সংক্রমণজনিত : হাড়ের টিবি/যক্ষ্মা রোগ।৪. কন্ড্রোম্যালাসিয়া প্যাটেলি।৫. হাঁটুর সন্ধি সংশ্লিষ্ট হাড়ের জন্মগত ত্রুটি।৬. হাড়ের টিউমার।৭. অন্যান্য।বৃদ্ধ বয়সে অর্থাৎ যাদের বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি তাদের প্রায় সবাইকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর অস্থিসন্ধির য়জনিত রোগে ব্যথার যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।হাঁটু ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর,ক্ষুধামন্দা এবং ওজন কমে যাওয়ার মতো লণগুলো না থাকে তাহলে নিম্নোক্ত উপদেশগুলো মেনে চলুন।১. সাময়িক হাঁটাচলা কম করে হাঁটুকে বিশ্রাম দিন।২. একনাগাড়ে অনেকণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। যদি বিশেষ কাজের প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাহলে দুই পায়ে সমান ভর করে দাঁড়াবেন না। এক পায়ে ভর দিয়ে কিছুণ দাঁড়িয়ে অন্য পাকে একটু আরাম দিন। এভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর এক পায়ে দেয়া ভরকে অন্য পায়ে পরিবর্তন করুন।৩. ঝুঁকে বা নুয়ে কোনো কাজ করবেন না।৪. ভারী কোনো জিনিস উত্তোলন ও বহন করবেন না।৫. মেঝেতে বসে কোনো কাজ করবেন না।৬. যথাসম্ভব হাঁটু ভাঁজ না করে বসার চেষ্টা করবেন।৭. মেরুদ- সোজা রেখে সাবধানে সীমিতভাবে হাঁটু ভাঁজ করে রেলিং ধরে সিঁড়িতে ওঠানামা করবেন। তবে ব্যথা না কমা পর্যন্ত সিঁড়ির ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে লিফটে ওঠানামা করুন।৮. হাঁটাচলার সময় নিক্যাপ ব্যবহার করা।৯. বাথরুমে কমড বা ছিদ্রযুক্ত বিশেষ চেয়ার ব্যবহার করা।১০. বয়স্করা লাঠি ভর করে হাঁটলে হাঁটুর ওপর কম চাপ পড়বে।১১. শারীরিক উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ওজন থাকলে কমিয়ে আনা।১২. সব কাজের শুরুতে খেয়াল রাখতে হবে যাতে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

প্রাথমিক চিকিৎসা : প্রাথমিকভাবে হাঁটুতে ব্যথানাশক জেল বা স্প্রে লাগানো এবং ব্যথা উপশমকারী সাধারণ ওষুধ হিসেবে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারেন। এরপর হাঁটুর ব্যথা কমলে শেখানো নিয়মে হাঁটুর ব্যায়াম শুরু করবেন।

বাসায় কতণ এবং কীভাবে ব্যায়াম করবেন?প্রতিদিন ১০-১২ বার ঘণ্টায় ২ মিনিট করে বিছানায় পা টানটান করে মেলে হাঁটু এবং থাই দিয়ে চাপ দিবেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম চিকিৎসা হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। যেমন-১. আইসোমেট্রিক কোয়াড্রিসেপস মাসেল (মাংসপেশি) এক্সারসাইজ২. হ্যামেস্ট্রিং মাসেল এক্সারসাইজ৩. নি-এক্সটেনশন এক্সারসাইজ৪. আরওএম (জঙগ) এক্সারসাইজ প্রভৃতিএছাড়াও হাঁটু ব্যথার চিকিৎসায় বিভিন্ন প্রকারের তাপ থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। যেমন- শর্ট ওয়েব, আল্ট্রাসাউন্ড, ময়েস্ট হিট, ড্রাই হিট প্রভৃতি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম ও তাপ থেরাপি নিতে ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তা নিতে পারেন।যদি এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যথা না কমে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শমতে, জয়েন্টের এক্সরে বা এমআরআই, বিএমডি এবং রক্তের প্রয়োজনীয় পরীা (ইএসআর, সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন, আর এ টেস্ট, অ্যান্টি-সিসিপি, এএনএ, রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা) প্রভৃতি করাতে হবে। পরীায় কোনো রোগ ধরা না পড়লে নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যথানাশক ওষুধ যেমন ইনডোমিথাসিন, এসিকোফেনাক, আইবু প্রোফেন, ন্যাপ্রক্সেন, ডাইকোফেনাক জাতীয় ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজে সঠিক নিয়মে খেতে হবে। মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ খেতে হতে পারে। এছাড়াও গ্লুকোসামিন, কন্ড্রয়েটিন সালফেট, ডায়াসেরিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ ওষুধসমূহ খেলে জয়েন্টের ব্যথা কমাতে যেমন সহায়তা করবে তেমনি জয়েন্টের সুরায় কাজ করবে।অনেক সময় ল করা যায়, বিশেষত অল্পবয়সী মেয়েদের েেত্র সিঁড়ি দিয়ে নামতে গেলে হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করেন। তাদের ব্যথার কারণ, হাঁটুর মধ্যস্থ মালাইচাকির পশ্চাৎ অংশের কার্টিলেজের য় হয়ে যাওয়া। এই রোগের নাম কন্ড্রোম্যালাসিয়া প্যাটেলি। এসব রোগীরাও উপরের উপদেশসমূহ মেনে জীবনযাপন করবেন। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি তারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে পারেন নতুবা কুড়িতে বুড়ি অর্থাৎ খুব দ্রুত অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।শীত অথবা গরমকালে যারা বেশির ভাগ সময় এয়ার কন্ডিশনের মধ্যে ঠাণ্ডায় থাকেন তাদেরও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। কারণ ঠাণ্ডায় বায়ুর চাপ কম থাকে এবং মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীরের টিস্যুগুলো ফুলে ওঠে এবং হাড়ের সন্ধিস্থল জমে যায়। ঠাণ্ডায় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হওয়ার দরুন মাংসপেশি, হাড়ের সন্ধিস্থল ও হাড়ে রক্ত চলাচল কমে যায়। ঠাণ্ডায় আমাদের স্নায়ুর সহ্য মতা হ্রাস পাওয়ার কারণে অল্পতেই ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়। এজন্য শীতকালে পুরনো ব্যথা বেড়ে যায়। শীতকালে হাঁটু ভাঁজ করে উঠতে-বসতে অনেক সময় কষ্ট হয়। শীতকালে ব্যথামুক্ত থাকতে চাইলে ঠাণ্ডা লাগাবেন না, গরম কাপড় পরিধান করুন, হালকা ব্যয়াম করতে পারেন, মৌসুমি সতেজ শাক-সবজি, ফলমূল, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন।আধুনিক নগর জীবনে ব্যস্ত মানুষজন অনেক সময় রক্তে ইউরিক এসিড বৃদ্ধির কারণে জয়েন্ট পেইন বা ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রক্তে ইউরিক এসিড বৃদ্ধির এই সমস্যা গাউট বা গাউটি আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত। এ সমস্যা পুরুষদের বেশি হয় এবং সাধারণত মধ্য বয়সে এ রোগের শুরু, এমনকি ষাট-সত্তর বয়সেও এ রোগ হতে পারে।

আমাদের শরীরে রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা :পুরুষ : ৩.৪০-৪.০০ মিলিগ্রাম/ডিএল,মহিলা : ২.৪০-৬.০০ মিলিগ্রাম/ডিএল।মানবদেহে কখন ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে রোগের সৃষ্টি করে?

# মানুষের শরীরে দুই ধরনের অ্যামাইনো এসিডের প্রয়োজন। একটি আবশ্যক (এসেনসিয়াল), অপরটি অনাবশ্যক (নন-এসেনসিয়াল) অ্যামাইনো এসিড। এই নন-এসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে হলো পিউরিন। পিউরিন আমাদের শরীরেই তৈরি হয় এবং কোষের মধ্যে থাকা পিউরিনের ভাঙনের ফলে ইউরিক এসিড তৈরি হয়ে রক্তে মিশে যায়।# এছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যদি দেহের চাহিদার থেকে বেশি পরিমাণে প্রোটিন, রেড মিট বা লাল মাংস, শুকনো শিম জাতীয় দানা, মটরশুঁটি, মাছের ডিম, কলিজা, কচু, লালশাক, পুঁই শাক এবং ক্রিম, বেকারির খাবার, রেড ওয়াইন, অ্যালকোহল জাতীয় খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।# বংশানুক্রম বা জেনেটিক কারণেও শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড তৈরি হতে পারে।# কেউ কেউ শরীর মেদহীন রাখতে কঠোর ডায়েটিং করেন এবং অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন কমান। এ েেত্র দীর্ঘদিন উপোস থাকার কারণে শরীরের রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায়।# যদি কারো কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে শরীর থেকে ইউরিক এসিড প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে না। তখনো, রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

ইউরিক এসিড বৃদ্ধিজনিত কারণে কোন ধরনের জটিলতাসমূহ সৃষ্টি হতে পারে :আমাদের শরীরের ইউরিক এসিড রক্ত থেকে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। সুতরাং রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই যে গাউট/গেঁটে বাত হবে এমনটা বলা যাবে না। যদি অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীরের বিভিন্ন খাঁজে বা পকেটে (বিশেষ করে জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলে) জমা হয়ে মনোসোডিয়াম ক্রিস্টাল বা স্ফটিক তৈরি করে। সুচের মতো ইউরিক এসিড ক্রিস্টালগুলো জয়েন্টে ব্যথার উদ্রেক করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁটতে সমস্যা হয়।এছাড়াও রক্তের শ্বেতকণিকা এই ইউরিক এসিড ক্রিস্টালকে ফরেন বডি মনে করে আক্রমণ করে। তখন জয়েন্ট ফুলে যায় এবং ব্যথার সৃষ্টি হয়।অতিরিক্ত ইউরিক এসিডের কারণে গাউট বা গেঁটে বাতসহ কিডনিতে পাথর, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতাসমূহ হতে পারে।

গেঁটে বাত বা গাউটকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয় :১. প্রাইমারি গাউট :যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি সাধারণত তারা বেশি আক্রান্ত হন।  ক্ষেত্রে প্রদাহজনিত কারণ দায়ী।২. সেকেন্ডারি গাউট :সাধারণত যাদের বয়স ৬৫ বছরের অধিক এবং মহিলারা বেশি আক্রান্ত হন।  ক্ষেত্রে কিডনির অকার্যকারিতা অথবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রধান কারণ।

গেঁটে বাত রোগের লণসমূহ :শুরুতে এ রোগের উপসর্গ বা লণ পাওয়া যায় না। হঠাৎ করেই লণ প্রকাশ পায় এবং ২-৬ ঘণ্টার মধ্যেই এর তীব্রতা প্রকাশ পায়। অনেকের েেত্র সকালে ঘুম থেকে জাগার পর রোগী ব্যথা অনুভব করেন। পায়ের বুড়ো আঙুল এবং হাঁটুতেই বেশি ব্যথা হয়। এছাড়াও গোড়ালির জয়েন্ট, মধ্য পায়ের জয়েন্ট, হাতের ছোট ছোট জয়েন্ট, কব্জির জয়েন্ট, কনুইর জয়েন্ট আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষার তখন একে পোডাগ্রা (Podagra) বলা হয়। সাধারণত ৫-১০ দিনের মধ্যে আপনা আপনি এ রোগের তীব্রতা কমে যায়।এই ধরনের বাতে ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল শরীরের জয়েন্টগুলোকে তিগ্রস্ত করে। শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলগুলো লাল হয়ে যায় এবং ফুলে উঠে ব্যথার উদ্রেক করে।কখনো কখনো এক ধরনের নকল গেঁটে বাতও হতে পারে। সে েেত্রও জয়েন্ট লাল হয়, ফুলে যায় এবং ব্যথা থাকে।এজন্য লণগুলো শুনে প্রয়োজনীয় পরীা-নিরীা করে চিকিৎসা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় পরীা-নিরীা :যদি রক্তে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইউরিক এসিড থাকে তাহলে বুঝতে হবে এটা গেঁটে বাতের সংকেত দিচ্ছে। তবে অনেক সময় গেঁটে বাত থাকা সত্ত্বেও রক্ত পরীায় ইউরিক এসিডের মাত্রায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে না।আবার এমনো হতে পারে, গেঁটে বাত একদমই হয়নি কিন্তু রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি। তখন রোগীর আক্রান্ত জয়েন্টের ভেতর থেকে তরল পদার্থ বা জয়েন্ট ফুইড নিয়ে পরীা করে দেখা হয় ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল আছে কিনা।* রক্তে ইএসআর (ESR) এর মাত্রা টোফিয়াস গাউটের (Topheous Gout) ক্ষেত্রে বেশি পাওয়া যায়।* চব্বিশ ঘণ্টার প্রস্রাবে ইউরিক এসিডের মাত্রা দেখা হয়।* কিডনির কার্যকারিতা নিরূপণের পরীক্ষাগুলো করা হয়।* আক্রান্ত জয়েন্টের এক্সরে (X-ray) করা হয়।* উপসর্গ অনুযায়ী প্রাইমারি গাউট মনে হলে খালি পেটে রক্তে লাইপোপ্রোটিনের (Lipoprotein) মাত্রা দেখা হয়।

গেঁটে বাতের চিকিৎসা :শরীরের অন্যান্য অস্থিসন্ধির বা জয়েন্ট সম্পর্কিত অসুখের সঙ্গে গেঁটে বাতের বাহ্যিক উপসর্গ বা লণসমূহ প্রায় একই রকম হয়ে থাকে। ফলে প্রাথমিকভাবে এর সঙ্গে অন্য বাতের পার্থক্য সহজে আলাদা করা যায় না। বিপত্তিটা ঘটে তখনই। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় না করে ওষুধ গ্রহণ করলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ েেত্র চিকিৎসকদেরও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।অপরদিকে কবিরাজি, টোটকা চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক বা মালিশ হোক ব্যথা হয়তোবা সাময়িকভাবে উপশম করতে পারে কিন্তু স্থায়ী কাজ হবে না।বাত সৃষ্টিকারী কারণ প্রশমনই চিকিৎসার মূল ল্য। ব্যথামুক্ত জীবনের জন্য গেঁটে বাতের রোগীদের নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চলা উচিত।১. ডায়েটিং করার নামে খাওয়া-দাওয়া একেবারে ছেড়ে দেয়া যাবে না।২. ওজন কমানোর জন্য বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘমেয়াদি উপোস থাকা উচিত নয়।৩. খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব খাদ্য শরীরে মেদ বা ওজন বাড়ায় তা একেবারেই পরিহার করতে হবে।৪. রেড মিট মানে অতি লাল মাংস, শুকনো শিম, মটরশুঁটি, কচু, লাল পুঁইশাক, মাছের ডিম, কলিজা এবং সামুদ্রিক খাবার পরিহার করা উচিত।৬. বেশি তেল-মসলাযুক্ত এবং বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার বর্জন করা।৭. রোগীকে শরীর থেকে মেদ কমানোর পাশাপাশি অ্যালকোহল গ্রহণ পরিহার করা উচিত।৮. নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যাতে কিডনি স্বাভাবিক থাকে। তবে যারা হার্ট কিংবা কিডনির রোগে ভুগছেন তাদের জন্য এ পরামর্শ নয়।৯. নিয়মিত ব্যায়াম করলে অনেক সময় এই গেঁটে বাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।১০. খাদ্য গ্রহণসহ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সতর্ক ও নিয়মমাফিক জীবনযাপন করলে গেঁটে বাতকে দমিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ব্যথা নিরাময় ও রোগ দমনের জন্য ওষুধ সেবন করা অপরিহার্য। সব ক্ষেত্রেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে।

সাধারণত ওষুধের মাধ্যমে নিম্নলিখিতভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয় :ক. হঠাৎ আক্রান্ত বাত (Acute Attack):* এ ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যম ব্যথানাশক ননস্টেরয়েডাল এন্টি ইনফামেটরি ড্রাগ (NSAIDS)। যেমন : ন্যাপ্রোক্সেন   (Naproxen), ডাইকোফেনাক (Diclofenac), ইনডোমেথাসিন (Indomethacin) ব্যথা নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।* ওরাল কলচিসিন (Oral colchicines) ও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেই বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে।* তীব্র ব্যথার সময় আক্রান্ত জয়েন্ট থেকে সিরিঞ্জের সাহায্যে তরল পদার্থ বের করে আনলে রোগী সুস্থ বোধ করেন। তরল পদার্থ বের করার পাশাপাশি ওই জয়েন্টে ইনজেকশনের সাহায্যে স্টেরয়েডও (steroid) দেয়া হয়। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় এ ধরনের চিকিৎসা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রদান করবেন।খ. দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা (Chronic Treatment) :দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় ইউরিক এসিডের মাত্রা কম রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। সে ক্ষেত্রেই শর্তগুলো হলো :১. বারবার গেঁটে বাতে আক্রান্ত হওয়া।২. টফাই (Tophi)-তে আক্রান্ত হওয়া।৩. হাড় য় বা অস্থিসন্ধিতে (joint) সমস্যা।৪. গেঁটে বাতের সঙ্গে কিডনির সমস্যা।৫. বাত এবং তার সঙ্গে রক্তে ইউরিক এসিডের উচ্চমাত্রা।

ওষুধসমূহ : (রোগীকে এসব ওষুধের সঙ্গে একত্রে স্যালিসাইলেট জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।)অ্যালোপিউরিনল (Allopurinol) :প্রারম্ভিক মাত্রা ১০০-৩০০ মি.গ্রা. প্রতিদিন। তবে কিডনি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেই মাত্রা কম হবে। ধীরে ধীরে এ মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। মাত্রা কমানোর পাশাপাশি ওরাল কলচিসিন (colchicin) ০.৫ মি.গ্রা. করে ১২ ঘণ্টা পরপর প্রথম কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যেতে হবে।প্রোবিনেসিড (Probenecid) :০.৫ মি.গ্রা. থেকে ১ গ্রাম প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর অথবা সালফিন পাইরাজোন ১০০ মি.গ্রা. প্রতি ৮ ঘণ্টা পরপর দেয়া যেতে পারে।প্রতিটি জীবন হোক ব্যথামুক্ত। এই শুভ কামনায় আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি।

লেখক : মেডিকেল অফিসার, বাংলাদেশ ব্যাংক মেডিকেল সেন্টার, মতিঝিল, ঢাকা

  

6 Comments

Araekuey
১১:২১ পূর্বাহ্ন, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
domperidone side effects blood pressure where can i buy domperidone in australia motilium 10mg for breastfeeding
Arahirosaj
৩:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
pantoprazole domperidone tablets used for domperidone over the counter in the us is pantoprazole a steroid
Aakakunor
৭:২৬ অপরাহ্ন, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
enteric coated rabeprazole domperidone sr capsules domperidone acid reflux in babies treatment
Anrayated
১২:২৯ পূর্বাহ্ন, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭
is it safe to take domperidone in pregnancy domperidone apo amitriptyline 50 mg
Asomedepom
১১:০২ অপরাহ্ন, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭
motilium domperidone oral suspension domperidone how much buscopan can i take
Akupomufuq
১২:৩৫ অপরাহ্ন, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭
alternative medicine for domperidone domperidone purchase new zealand ppi mode of action

Post Your Comment