আজ শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ |
Search

প্রচ্ছদ অর্থনীতি অগ্রণী ব্যাংকের শতাধিক কোটি টাকার ঋণ জামানতবিহীন

৪০  বার পড়া হয়েছে

অগ্রণী ব্যাংকের শতাধিক কোটি টাকার ঋণ জামানতবিহীন

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭

  

chahida-news-1511672018.jpg

অগ্রণী ব্যাংকে ১০২ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে বন্ধকী ভবন বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে সানমুনস্টার গ্রুপ। আদালতের অনুমতি নিয়ে তারা এ ভবন বিক্রি করছে। ভবনটি কিনছে ওই গ্রুপকে আরেক ঋণদাতা ন্যাশনাল ব্যাংক। দিলকুশার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সানমুনস্টার ভবন। এ ভবন অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক হিসেবে রয়েছে। এটি বিক্রি হলে অগ্রণী ব্যাংকের ১০২ কোটি টাকার ঋণ জামানতবিহীন হয়ে পড়বে। ফলে এ ঋণের টাকা আদায় হবে না বলে আশঙ্কা করছে অগ্রণী ব্যাংক। এ কারণে তারা ভবনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮৪ কোটি টাকায় ভবনটি কিনছে। ওই গ্রুপের কাছে নিজেদের পাওনা ১৩৬ কোটি টাকা রেখে বাকি ৪৮ কোটি টাকা মুন গ্রুপকে দেবে। এতে মুন গ্রুপের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়দেনা মিটে যাবে। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক থেকে এমআর ট্রেডিং কোম্পানির নামে ১০২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সানমুনস্টার গ্রুপ। ওই ঋণের বিপরীতে ওই ভবন বন্ধক রাখা আছে ব্যাংকের কাছে।

সূত্র জানায়, মো. মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মুন গ্রুপের কাছে অগ্রণী ব্যাংকের পাওনা ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআর ট্রেডিং নামের মুন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০২ কোটি টাকা ঋণ পাওনা রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ রয়েছে ১৩৬ কোটি টাকা। খেলাপি হওয়ায় গত বছর ১ মার্চে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ব্যাংক দুটি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনপ্রাপ্তির পর চলতি বছরের মার্চে ওই ঋণ ৩ বছরের মরেটরিয়াম পিরিয়ডসহ ১২ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।

চলতি বছর ৩০ আগস্ট ওই বন্ধকী ভবন বিক্রির জন্য হাইকোর্টে রিট করেন মুন গ্রুপের মো. মিজানুর রহমান। গত ৫ অক্টোবর ওই ভবন বিক্রির জন্য অবমুক্ত করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশে বলা হয়, ভবন বিক্রির ১৩৬ কোটি টাকা নিজেদের পাওনা বাবদ কেটে রাখবে ন্যাশনাল ব্যাংক। বাকি ৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ভবন মালিককে ফেরত দেবে। এ টাকা ফেরত পাওয়ার পর ৩৭ দিলকুশায় অবস্থিত বন্ধকী ভবনের সাড়ে আটটি ফ্লোর অবমুক্ত হয়ে যাবে।

সূত্র জানায়, সানমুনস্টার টাওয়ারের ১০ তলা ও ১৪ তলার অর্ধেক কিনছে ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা করে। দুই ফ্লোর সর্বমোট ৪৬ হাজার বর্গফুট জায়গা কিনছে। এতে মূল্য আসছে ১৮৪ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওই ভবন কেনার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। ব্যাংকের নামে সম্পত্তি কিনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। তাই অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠিও পাঠিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন।

ভবন কেনাসংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার দিলকুশায় সানমুনস্টার টাওয়ারের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যাওয়া হয়। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি চৌধুরী মোশতাক আহমেদ ও ডিএমডি এএসএম বুলবুলের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তারা রাজি হননি।

এদিকে ১৪ তলা অগ্রণী ব্যাংকের কাছেও বন্ধক রয়েছে। এমআর ট্রেডিংয়ের কাছে অগ্রণী ব্যাংকের পাওনা ১০২ কোটি টাকা। ওই সম্পত্তি অবমুক্ত করে দিলে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ বন্ধকবিহীন হয়ে পড়বে। এতে তাদের ১০২ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে যাবে বলে মনে করছে ব্যাংকটি।

এদিকে ঋণের টাকা আদায়ে সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা অবগত হয়েছি, ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত বন্ধকী সানমুন টাওয়ারের ফ্লোর বিক্রির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এমআর ট্রেডিংয়ের ঋণসহ মুন গ্রুপের সব ঋণ আদায়ে সানমুন টাওয়ারের ফ্লোর বিক্রির টাকা যেন অগ্রণী ব্যাংকের মুন গ্রুপের হিসাবে জমা হয়, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ওই ভবন বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন আদালত। ভবন বিক্রির টাকা থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের পাওনা আদায় করবে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি, ভবন বিক্রির টাকা থেকে যেন আমাদের পাওনা পেতে পারি। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনি প্রক্রিয়া উভয় দিক থেকেই পাওনা আদায়ের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে মুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সানমুনস্টার টাওয়ার তার কার্যালয়ে ল্যান্ডফোনে কল দিলে তিনি নেই বলে জানানো হয় এবং কখন আসবেন তা ঠিক নেই।

অগ্রণী ব্যাংক সূত্র জানায়, সানমুনস্টার টাওয়ারের ১৪ থেকে ২৩ তলা বন্ধক রেখে ২০১১ সালে এমআর ট্রেডিংয়ের নামে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নেন মিজানুর রহমান। ৫ বছর মেয়াদি ওই ঋণের প্রথম কিস্তিও পরিশোধ করা হয়নি। ওই ঋণের বকেয়া ৬৪ কোটি দাঁড়ালে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ৩৬ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করা হয়। কিন্তু মিজানুর রহমান পুনঃতফসিলের শর্ত না মেনে পরবর্তী ৮ বছর গৃহীত ঋণের বিপরীতে কোনো টাকা পরিশোধ করতে পারবেন না মর্মে জানিয়ে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ (বিশ) বছর অর্থাৎ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মার্চে আদালত ওই ঋণটি ১২ বছরের জন্য পুনঃতফসিল ও পরিশোধ সূচি নির্ধারণ করে আদেশ প্রদান করে।

এদিকে মুন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মুন বাংলাদেশ নামের ১০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রুপের চেয়ারমান মিজানুর রহমানসহ অগ্রণী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুদক। গত ১৯ নভেম্বর অভিযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান খান, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আখতারুল আলম, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আমিরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল্লাহ ও সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৪ অগাস্ট পর্যন্ত মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে ওই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ মামলার পর মিজানকে গ্রেপ্তারও করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদকে পদ থেকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মুন বাংলাদেশের কাছে বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের পাওনা ১৬০ কোটি টাকা। সূত্র: আমাদের সময়

  

Post Your Comment